জাতীয় মসজিদের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি বায়তুল মোকাররমের

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০২০, ০১:৩৪ এএম

বায়তুল মোকাররম বাংলাদেশের জাতীয় মসজিদ হিসেবে পরিচিত। ১৯৬০ সালে এই মসজিদের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ১৯৬২ সালে কাজ মোটামুটি শেষ হয়। সিন্ধুর স্থপতি এ এইচ থারানি এই মসজিদের নকশা প্রণয়ন করেন। শিল্পপতি লতিফ বাওয়ানি ও তার ভাতিজা ইয়াহইয়া বাওয়ানি মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেন।

স্বাধীনতার পর ১৯৭৫ সালের ২৮ মার্চ থেকে এই মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণ করছে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ। বায়তুল মোকাররম মসজিদটি আটতলার। নিচতলায় বিপণিবিতান ও গুদামঘর। দোতলা থেকে ছয়তলা পর্যন্ত প্রতি তলায় নামাজ হয়। তিনতলার উত্তর পাশে নারীদের নামাজের ব্যবস্থা রয়েছে। একসঙ্গে ৪০ হাজার মুসল্লি এতে নামাজ আদায় করতে পারেন। এটি ঢাকা শহরের গর্ব ও পৃথিবীর অন্যতম সুন্দর মসজিদ।

স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও দেশীয় পাঠ্যপুস্তকে উল্লেখ আছে, বাংলাদেশের জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম। কিন্তু কাগজে-কলমে এর কোনো ভিত্তি নেই; আনুষ্ঠানিক কোনো স্বীকৃতি নেই। এবার মুজিববর্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় মসজিদের স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছে বায়তুল মোকাররম।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শেখ মো. আবদুল্লাহ গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ এটা সবাই জানে। কিন্তু এর কোনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নেই। সেটা কেউ এত দিন খেয়াল করেনি। আমরা মুজিববর্ষে এর আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রস্তাব পাঠিয়েছি।’

প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বায়তুল মোকাররম মসজিদ ঢাকা মহানগরীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত। দেশের প্রধান ও বড় মসজিদ হিসেবে এটি দেশবাসীর কাছে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে এটি ‘জাতীয় মসজিদ’ পরিচয় ধরে রেখেছে। অথচ আনুষ্ঠানিকভাবে এটিকে জাতীয় মসজিদ হিসেবে ঘোষণা বা স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। বায়তুল মোকাররম মসজিদের সঙ্গে ‘জাতীয়’ শব্দ যুক্ত করা হলে এটির ভাবগাম্ভীর্য বাড়বে। একে কেন্দ্র করে দেশের সম্মান ও মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে। এর জন্য অতিরিক্ত কোনো অর্থের প্রয়োজন নেই। তা ছাড়া মুজিববর্ষে জাতীয় মসজিদ হিসেবে বায়তুল মোকাররমকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিলে দেশ-বিদেশে ও ধর্মীয় ক্ষেত্রে সরকারের মর্যাদা উজ্জ্বল হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত