মাঝরাতে স্থানীয় সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগানকে তুলে এনে জেল-জরিমানা দেওয়ার পর থেকে তুমুল সমালোচনার মধ্যে থাকা কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীনকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সরকার।
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন রবিবার সাংবাদিকদের জানান, স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে ওই ঘটনার তদন্ত করে ডিসির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
“তাকে প্রত্যাহার করা হবে। এরপর তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হবে। কর্ম অনুযায়ী তার শাস্তি হবে।”
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংশ্লিষ্ট ফাইল অনুমোদন করলেই ডিসিকে প্রত্যাহারের আদেশ জারি করা হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ।
রবিবারই কুড়িগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুজাউদ্দৌলা ২৫ হাজার টাকা জামানতে আরিফুলকে জামিন দেন। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি। আরিফুল অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলাট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি।
কুড়িগ্রামে জেলা প্রশাসকের সমালোচনা করে সংবাদ প্রকাশের ১০ মাস পর মাদক রাখার অভিযোগে আরিফুলকে গত শুক্রবার মধ্যরাতে দরজা ভেঙে বাসা থেকে তুলে নিয়ে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল ভ্রাম্যমাণ আদালত। পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়।
তবে মাদকবিরোধী টাস্কফোর্সের অভিযানের অংশ হিসেবে আরিফুলকে আটক করা হয় বলে দাবি করেছিলেন অভিযান পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিন্টু বিকাশ চাকমা।
উল্লেখ্য, শহরের একটি সরকারি পুকুর সংস্কারের পর জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন নিজের নামানুসারে ‘সুলতানা সরোবর’ নামকরণ করতে চেয়েছিলেন উল্লেখ করে দশ মাস আগে বাংলা ট্রিবিউনে সংবাদ করেছিলেন আরিফুল।
পরিবারের দাবি, এর জেরেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরিফুলের গ্রেপ্তার প্রক্রিয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে প্রশ্ন তুলেন। সমালোচনা করেন জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীনের।
