করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সম্মিলিত কর্মপন্থা ঠিক করতে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন সার্কভুক্ত আটটি দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানেরা। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আহ্বানে রবিবার বিকেলে ভিডিও কনফারেন্সে আসেন তারা।
এতে পাকিস্তানের পক্ষে যোগ দেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা জাফর মির্জা। তিনি সেখানে ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের প্রসঙ্গ তোলেন।
জাফর মির্জা বলেন, উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে জম্মু-কাশ্মীরেও করোনাভাইরাস আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে। জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সেখানে সব ধরনের কড়াকড়ি অবিলম্বে তুলে নেয়া উচিত।
প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের আগস্টে জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে ভারতের মোদি সরকার। তখন থেকে অঞ্চলটিতে কঠোর কড়াকড়ি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি জারি করা হয়। এতে জরুরি চিকিৎসা সেবা পেতে বঞ্চিত হচ্ছেন কাশ্মীরিরা।
এদিকে করোনা মোকাবিলায় সার্ক নেতৃত্বের সঙ্গে একমত হয়ে তিনি বলেন, ‘খারাপ পরিস্থিতির জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি সার্ক নেতৃবৃন্দ এমন একটি প্ল্যাটফর্ম প্রস্তুত করবেন, যেখান থেকে সার্কের সদস্য দেশগুলোকে সব ধরনের জরুরি পণ্য, প্রযুক্তি, অভিজ্ঞতা এমনকি অর্থ সহায়তা দেয়া হবে।’
এদিন করোনার আতঙ্ক কাটিয়ে সার্ক গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলোকে সম্মিলিতভাবে রোগ প্রতিরোধ করতে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করার বার্তা দেন মোদি।
সার্কের নেতাদের তিনি বলেন, ‘ভয় পাবেন না, রোগ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকুন।’ সেই সঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ‘বৈশ্বিক মহামারি পর্যায়’ হিসেবে ঘোষণা দেওয়া ওই রোগ ঠেকাতে ভারত কী কী ব্যবস্থা নিচ্ছে সেটিও তুলে ধরেন তিনি।
করোনা প্রতিরোধে সার্কের দেশগুলোকে একটি জরুরি তহবিল গড়ার প্রস্তাব দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। এ জন্য সাড়ে ৭৩ কোটি রুপির বেশি অনুদান দিতে চান তিনি।
ভিডিও কনফারেন্সে মোদির সঙ্গে যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি ইব্রাহিম মোহাম্মদ সলিহ, শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি গোটাবে রাজাপাকসে, নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা জাফর মির্জা।
