চসিক নির্বাচনের প্রচারে করোনার আতঙ্ক

ভোটারদের সঙ্গে হাত মেলাতে গিয়ে বিব্রত হচ্ছেন প্রার্থীরা

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০২০, ০৪:২০ এএম

করোনাভাইরাস আতঙ্কের প্রভাব পড়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে। প্রচারে ভোটারদের সঙ্গে হাত মেলাতে গিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়তে হচ্ছে প্রার্থীদের। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি নিয়েও শঙ্কিত প্রার্থীরা।

গতকাল বুধবার দেশে করোনা আক্রান্ত একজনের মৃত্যুর খবর এসেছে। নতুন করে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায় আরও চারজনের। সব মিলে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৪। এ অবস্থায় চসিক নির্বাচন পেছানোর পক্ষে বিভিন্ন প্রার্থী দাবি তুললেও নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেনি নির্বাচন কমিশন।

ঘোষিত তফসিল অনুসারে ২৯ মার্চ চসিক নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। এ নির্বাচন সামনে রেখে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নগরজুড়ে চলছে প্রার্থীদের প্রচারণা। কিন্তু প্রতীক বরাদ্দের পর প্রচারে যে আমেজ ছিল, দেশে করোনা আক্রান্তের খবর আসার পর থেকে তাতে ভাটা পড়েছে।

নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা উৎসবমুখর নির্বাচন চাই, আতঙ্কের নির্বাচন নয়। এমনিতে নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী কার্যকলাপের ভয়, অন্যদিকে করোনার ঝুঁকি। এ দুইয়ে মিলে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত। যেহেতু ‘করোনাভাইরাস’টি ছোঁয়াচে এবং নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসের মধ্য দিয়েও এ ভাইরাস সংক্রমিত হচ্ছে, তাই এ মুহূর্তে নির্বাচন অন্তত দুই মাস পিছিয়ে দেওয়া বাঞ্ছনীয়।

ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ মনোনীত মেয়র প্রার্থী ওয়াহেদ মুরাদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, যেখানেই প্রচারণায় যাচ্ছি লোকজনের চোখেমুখে আতঙ্কের ছাপ দেখছি। করোনার আতঙ্কে লোকজন একে অপরের সঙ্গে ভালোভাবে হাত মেলাচ্ছেন না। তিনি বলেন, করোনার কারণে যেখানে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, জাতির জনকের জন্মশতবার্ষিকীর রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান পর্যন্ত সংকুচিত করা হয়েছে, সেখানে চসিক নির্বাচন অবশ্যই পিছিয়ে দেওয়া প্রয়োজন।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, করোনার কারণে আমরা সবাই এখন উদ্বেগের মধ্যে রয়েছি। চট্টগ্রাম বড় ধরনের করোনার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এ অবস্থায় ২৯ মার্চ চসিক নির্বাচন করা ঠিক হবে কি না, সেটা নির্বাচন কমিশনের ভেবে দেখা উচিত।

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সমুদ্রবন্দরের কারণে চট্টগ্রাম বড় ধরনের করোনাঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. ফজলে রাব্বী মিয়া। সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে এ পর্যন্ত বিদেশফেরত ৯১ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। করোনার ঝুঁকির কারণে সতর্কতা ও সচেতন থাকার জন্য বিভিন্ন ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর কেক কাটা অনুষ্ঠান শেষে বলেছিলেন চসিক নির্বাচন পেছানো হবে কি না তা পরিস্থিতি বিবেচনা করে দু-এক দিনের মধ্যে জানানো হবে। এর মধ্যে গতকাল দেশের করোনা আক্রান্ত এক ব্যক্তির মৃত্যুর খবর গণমাধ্যমে এসেছে। বাড়ছে করোনা আক্রান্তের খবরও। কিন্তু নির্বাচন কমিশন থেকে নির্বাচন পেছানোর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিটি কপোরেশনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান বলেন, নির্বাচন পেছানোর বিষয়টি কমিশনের এখতিয়ারের মধ্যে। কমিশন থেকে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত এলে আমরা সঙ্গে সঙ্গে তা জানিয়ে দেব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত