সব কিছু ঠিক থাকলে ‘এক মাস পর থেকে’ ৩০০ টাকা দিয়ে মাত্র ১৫ মিনিটে নভেল করোনাভাইরাস হতে সৃষ্ট রোগ কভিড-১৯ শনাক্ত করতে পারবেন বাংলাদেশিরা।
রোগটি শনাক্ত করতে ডা. বিজন কুমার শীলের নেতৃত্বে কয়েকজন গবেষক যে পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন সেটি চিকিৎসা-সেবার ব্যবহারোপযোগী করতে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র বিদেশ থেকে প্রয়োজনীয় কেমিক্যাল আমদানির অনুমতি পাওয়ায় এই সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বেলা একটার দিকে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর থেকে এই অনুমতি দেয়া বলে জানিয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।
গণস্বাস্থ্যের পক্ষে বিজন কুমার শীলের উদ্ভাবিত পদ্ধতিতে মূলত ‘র্যাপিড ডট ব্লট’ প্রক্রিয়ার বিশেষ উপকরণ দিয়ে পরীক্ষাটি করা হবে। অনেকটা রক্তের গ্রুপ পরীক্ষার মতো পদ্ধতি। উপকরণ তৈরি করতে যে রাসায়নিক পদার্থ লাগে সেটি বিদেশ থেকে আনতে হয়। এগুলো আনার জন্য আবার সরকারের অনুমোদন লাগে।
জাফরুল্লাহ চৌধুরী এদিন দুপুরে বলেন, ‘ব্রিটেন থেকে এক সপ্তাহের ভেতর কেমিক্যালস নিয়ে আসতে পারলে, দুই সপ্তাহের ভেতর আমরা সরকারকে স্যাম্পল দিতে পারব। বাজারে আসবে এক মাসের ভেতর।’
‘র্যাপিড ডট ব্লটের’ উপকরণ তৈরি করতে অ্যান্টিজেন-অ্যান্টিবডি, প্রোটিনসহ নানা ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়। এটি দিয়ে রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ের মতো এক ফোঁটা রক্ত দিয়ে খুব সহজে ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত করা যায়।
বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত কিট দিয়ে কভিড-১৯ শনাক্ত করছে আইইডিসিআর। এটি ব্যয়বহুল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা চীন থেকে সরবরাহ করা হয়। পরীক্ষার জন্য আবার উন্নত ল্যাবরেটরি দরকার পড়ে। এভাবে আক্রান্ত রোগীকে প্রথমদিন থেকেই পরীক্ষা করা যায়। তবে রিপোর্ট পেতে কয়েক দিন সময় লেগে যায়।
‘র্যাপিড ডট ব্লট’ দিয়ে পরীক্ষা করতে হলে আক্রান্তের পর তিনদিন অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু রিপোর্ট আসে হাতেনাতে।
বাংলাদেশের এই আবিষ্কারকে ‘যুগান্তকারী’ বলে মন্তব্য করেছে আমেরিকার ‘সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন’ প্রতিষ্ঠান। তারা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সঙ্গে কাজ করার কথাও বলেছে।
