নির্দেশনা না মেনে বিয়ের আয়োজন করায় সাভারে জার্মান ও পর্তুগাল ফেরত দুই প্রবাসীর বিয়ে বন্ধ করে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। এরই মধ্যে ঘটা করে তাদের বিয়ের আয়োজন চলছিল। গত কয়েক দিন আগে তারা দেশে ফেরেন এবং শুক্রবার বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। বৃহস্পতিবার বিকেলে বিয়ে বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পারভেজুর রহমান।
সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সায়েমুল হুদা বলেন, আশুলিয়ার গাজীরচট এলাকায় জার্মান ফেরত এক প্রবাসী এবং সাভারের ডগরমোড়া এলাকায় পর্তুগাল ফেরত অপর প্রবাসী নির্দেশনা অমান্য করে বিয়ের আয়োজন করেছিল। খবর পেয়ে সাভার উপজেলা প্রশাসন তাদের বিয়ে ভেঙে দিয়ে প্রবাসীদের হোম কোয়ান্টোইনে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। এ ঘটনায় কনে পক্ষকেও প্রবাসীদের সঙ্গে বিয়ে না দেওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।
এ ছাড়া সব মিলিয়ে সাভারে গত কয়েক দিনে বিদেশ ফেরতসহ মোট ২৮ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।
অন্যদিকে সাভার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল মাহফুজ জানান, করোনাভাইরাসের বিষয়ে সরকার খুব সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। গত ১৫ মার্চ মা ও ছেলে ভারত থেকে মানিকগঞ্জের সিংগাইরে নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন। সিংগাইর উপজেলা প্রশাসন তাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বললে মা ও ছেলে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে সাভারের ব্যাংক কলোনি এলাকায় ভাড়া বাসায় অবস্থান নেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে আমরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে ওই ভাড়া বাড়িতে যাওয়ার আগেই তারা এখান থেকে পালিয়ে যায়। তবে আমরা সজাগ রয়েছি, মা ও ছেলে ভাড়া বাসায় আসামাত্র তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ছাড়া করোনাভাইরাসের দোহাই দিয়ে চালের বাজারে অস্থিরতা তৈরি এবং বস্তা প্রতি দুই থেকে তিন শ টাকা দাম বৃদ্ধি করায় সাভার নামাবাজার এলাকার তিন চাল ব্যবসায়ীকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে বলেও জানান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল মাহফুজ।
এ সময় উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজারে মাইকিং করে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
