মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় হোম কোয়ারেন্টাইনে না থাকা বিদেশফেরতদের খোঁজে মাঠে নেমেছে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও স্বাস্থ্য বিভাগ।
সরকারি তালিকা অনুযায়ী শতাধিকের বেশি বিদেশফেরতের হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। এতে এ উপজেলায় আরও করোনা ঝুঁকি বাড়ছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাজ্জাদুর রহমান বলেন, সোমবার (২৪ মার্চ) পর্যন্ত এ উপজেলায় মোট ১০৬ জন প্রবাসী হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন। এর মধ্যে ১২ জন প্রবাসী ১৪ দিন অতিবাহিত করে শঙ্কা মুক্ত হয়েছেন।
তিনি জানান, প্রতিদিন ‘হোম কোয়ারেন্টাইনে’ থাকা প্রবাসীদের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেওয়া, নতুন কেউ এলে তাকে খুঁজে বের করে ‘হোম কোয়ারেন্টাইনে’ রাখা এবং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের সেবা দেওয়া একসঙ্গে সবগুলো কাজ করা খুব কঠিন হয়ে পড়েছে। বিদেশফেরত তালিকাভুক্ত অনেককে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের খোঁজে স্বাস্থ্যকর্মীরা মাঠে কাজ করছেন।
‘করোনা রোধে একটি তালিকা নিয়ে আমরা যৌথভাবে কাজ করছি। কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতে স্বাস্থ্যকর্মীরা তদারকি করছেন। তাছাড়া যেসব স্বাস্থ্যকর্মী করোনা রোধে মাঠে কাজ করছেন তারাও ঝুঁকিমুক্ত নন’ বলেন তিনি।
জানা যায়, ১ মার্চ থেকে ১৭ তারিখ পর্যন্ত এ উপজেলায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ৩০১ জন প্রবাসী এসেছেন। তবে গত পাঁচদিনে নতুন করে আরও কতজন দেশের বাইরে থেকে এই উপজেলায় এসেছেন তার কোনো তথ্য এখনো তাদের হাতে আসেনি। এদের মধ্যে রয়েছেন প্রবাসী, বিদেশি নাগরিক ও বিদেশফেরত বাংলাদেশি। আর হোম কোয়ারেন্টাইনের বাইরে থাকাদের খোঁজে মাঠে নেমেছে পুলিশ প্রশাসন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ করছেন স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারাও।
এদিকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ না মানায় গত তিন দিনে ১১ জন প্রবাসীকে বিভিন্ন অংকের টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুর রহমান মামুন।
শ্রীমঙ্গল থানার ওসি মো.আব্দুছ ছালেক বলেন, ‘তালিকা অনুয়ায়ী প্রবাসীদের খোঁজে আমরা ‘হোম কোয়ারেন্টাইনে’ রাখছি। এই ভাইরাস রোধে প্রতিদিন সচেতনতামূলক প্রচারণা ও মাইকিং চলছে। তবু আমাদের অনুরোধ, নিজের এবং দেশের মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হবেন না’।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, এ উপজেলায় এখন পর্যন্ত ১০৬ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।
তাছাড়া এলাকার লোকজনকে সচেতন করার পাশাপাশি বিদেশফেরতদের তথ্য জানতে জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন স্তরের ব্যক্তিদের নিয়ে প্রতিটি ইউনিয়নে, ওয়ার্ডে কমিটি করে দে্ওয়া হয়েছে। করোনাভাইরাস সংক্রামক প্রতিরোধে ‘জনসমাগম না করতে মাইকিং করে সচেতনতা করা হচ্ছে। এতে সাড়া দিয়ে অনেকে মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ রেখেছেন।
তবে ফার্মেসিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দোকানপাট খোলা রয়েছে বলে জানান তিনি।’
