করোনাভাইরাসের কারণে গাইবান্ধায় এনজিওর ঋণের কিস্তির টাকা আদায় সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে বলা হয়েছে।
এদিকে ঢাকার আইইডিসিআরের একটি প্রতিনিধি দল গাইবান্ধায় হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তিদের নমুনা সংগ্রহ করছে। জেলায় এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন দুইজন এবং হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন ২২৬ জন।
এনজিওর কিস্তি আদায় বন্ধ:
গাইবান্ধা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর (এনজিও) ঋণের টাকা আদায় বন্ধের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। এ নির্দেশনা গত সোমবার রাতে প্রকাশ করা হয়।
তবে এ নির্দেশ অমান্য করে বিভিন্ন এলাকায় কিস্তির টাকা আদায় করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
কিস্তি আদায়কারী কর্মকর্তারা বলছেন, কিস্তির টাকা উত্তোলন বন্ধে তাদেরকে অফিস থেকে কোনো নির্দেশনা না দেওয়ায় তারা কিস্তির টাকা সংগ্রহ করছেন।
আইইডিসিআরের প্রতিনিধি দল গাইবান্ধায়:
ঢাকার রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) থেকে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল গাইবান্ধায় এসেছে। তারা সোমবার থেকে নমুনা হিসেবে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা প্রত্যেকের বাড়ি বাড়ি গিয়ে রক্ত ও গলার রস সংগ্রহ করছেন।
আইইডিসিআরের চিকিৎসক সোহেল রহমানের নেতৃত্বে এই দলটি কাজ করছে। তারা আরও দু-একদিন এসব নমুনা সংগ্রহ করবেন।
আক্রান্ত দুজন যেখানে:
গত ১০ মার্চ আমেরিকা থেকে বাংলাদেশে আসেন বাবা-মা ও ছেলে। গত ১৫ মার্চ গাইবান্ধা সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে তাদের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় আইইডিসিআরে পাঠানো হয়। পরে পরীক্ষার ফলাফলে গত রবিবার জানানো হয় মা ও ছেলে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। এরপর থেকে তারা গাইবান্ধা শহরে এক আত্মীয়ের বাসায় অবস্থান করছেন।
তবে তাদেরকে সরকারি তত্ত্বাবধানে কোনো প্রতিষ্ঠানে নেওয়া হয়নি।
এছাড়া গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় ৬২ জন, সুন্দরগঞ্জে ৪৫ জন, সদরে ৩৭ জন, সাদুল্লাপুরে ২১ জন, সাঘাটায় ১৯ জন, পলাশবাড়ীতে ১৭ জন ও ফুলছড়িতে ১৬ জন এবং বগুড়া থেকে গাইবান্ধায় এক বিয়ের অনুষ্ঠানে আসা ৯ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন।
পত্রিকা বিক্রি কমে গেছে:
গাইবান্ধা শহরের পত্রিকা বিক্রেতা ময়নুল হোসেন বলেন, গত কয়েকদিনে পত্রিকা বিক্রি অনেক কমে গেছে। পত্রিকার মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়াতে পারে এই কারণে চিকিৎসক ও শিক্ষকসহ অনেকে পত্রিকা কিনছেন না। অনেকে বাড়ির গেট খুলে দেন না। তখন প্রাচীরের উপর দিয়ে পত্রিকা ছুড়ে দিয়ে আসি। আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে আর কেউ পত্রিকা বিক্রি করবেন না বলে জানিয়েছেন কয়েকজন পত্রিকা বিক্রেতা।
মানুষের চলাচল কমে গেছে:
গতকাল সকালে সাঘাটা উপজেলার পদুমশহর, সদর উপজেলার বাদিয়াখালীসহ শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ভয়ে, আতংকে মানুষের চলাচল অনেকটাই কমে গেছে। অনেকেই মুখে মাস্ক ব্যবহার করছেন। তবে অনেককেই আবার মাস্ক ছাড়াই চলাচল করতে দেখা গেছে। তবে রাস্তায় ছোট শিশুদের তেমন একটা চলাচল করতে দেখা যায়নি। জেলা প্রশাসন, সিভিল সার্জন, র্যাব ও গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের পক্ষ থেকে শহরে সচেতনতামূলক মাইকিং করা হচ্ছে। ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলামুখী বাসগুলোতে যাওয়া কমিয়ে দিয়েছেন মানুষ।
জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মতিন বলেন, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা এবং নিম্নআয়ের মানুষের আয় ও কাজের পরিধি কমে যাওয়ায় গাইবান্ধার সাত উপজেলায় সকল এনজিওর ঋণের কিস্তির টাকা আদায় সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে অনুরোধ করা হয়েছে।
গাইবান্ধার সিভিল সার্জন ডা. এ বি এম আবু হানিফ দেশ রূপান্তরকে বলেন, আইইডিসিআরের প্রতিনিধি দলটি হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তিদের নমুনা ঢাকায় নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন। তারপরই বোঝা যাবে গাইবান্ধায় হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা আর কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন কিনা। করোনায় আক্রান্ত দুজন তাদের বাসাতেই আছেন। তারা আমাদের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে আছেন। প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া আর কেউ করোনায় আক্রান্ত হননি।
