ভালুকায় মসজিদের জমি বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ

আপডেট : ২৬ মার্চ ২০২০, ১২:০৬ এএম

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ৭ নম্বর মল্লিকবাড়ী ইউনিয়নের বর্তা মধ্যপাড়া বায়তুন নুর জামে মসজিদের নামে ওয়াকফকৃত জমি প্রতারণার মাধ্যমে বিক্রি করে ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে মসজিদের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামালের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গতকাল বুধবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর ওই এলাকার ৬২ জন মুসল্লি স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৭ নম্বর মল্লিকবাড়ী ইউনিয়নের বর্তা গ্রামের মৃত আবদুল মজিদের ছেলে একিন আলী ও একুব আলী বর্তা বায়তুন নুর জামে মসজিদ ও তৎসংলগ্ন ফুরকানিয়া আশরাফিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার নামে ৫ জুলাই ১৯৭৫ সালে ৭৪৫৮ ও ৭৪৫৯ নম্বর দলিল দ্বারা সাড়ে ৭৮ শতাংশ জমি ওয়াকফ দলিল রেজিস্ট্রি করে দেন।

কিন্তু বর্তা গ্রামের আ. বারেকের ছেলে মসজিদ ও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল গত ৩ ফেব্রুয়ারি সাদা রেজল্যুশনে স্বাক্ষর নিয়ে কাউকে কিছু না জানিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে মসজিদ ও মাদ্রাসা কমিটির অনুমোদন দেখিয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর আসাদুর রহমান কিরণের কাছে গোপনে ১৯ ফেব্রুয়ারি ১৪৭১ নম্বর দলিল মূলে প্রায় কোটি টাকা মূল্যের সাড়ে ৭৮ শতাংশ জমি ৪৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা মূল্য নির্ধারণ করে ১৫ লাখ টাকা বায়না নিয়ে ৩৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা বাকি রেখে বায়নানামা দলিল রেজিস্ট্রি করে দেন। মসজিদ-মাদ্রাসা কমিটি ও মহল্লার লোকজন বিষয়টি সাধারণ সম্পাদকের কাছে জানতে চাইলে তিনি ৫ লাখ টাকা বায়না নেওয়ার কথা স্বীকার করেন। ওই সাধারণ সম্পাদক প্রতারণার মাধ্যমে কম মূল্যে জমি বিক্রি করেও ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

এলাকাবাসী আরও জানান, মসজিদের নিজস্ব জমির ওপর একটি অফিস নির্মাণ করে সরকারি অনুমতিবিহীন সমিতির নামে রমরমা সুদের ব্যবসা করে যাচ্ছেন ওই সাধারণ সম্পাদক।

মসজিদ ও মাদ্রাসা কমিটির কোষাধ্যক্ষ রফিকুল আলম মাস্টার জানান, জমি বিক্রির বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আমাদের কমিটির হয়নি। একটি মিটিংয়ে সাদা রেজল্যুশনে উপস্থিতিদের স্বাক্ষর নিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে রেজল্যুশন তৈরি করে জমি বিক্রি করেছেন।  

বায়নাপত্র দলিলে ৪৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা উল্লেখ থাকলেও অভিযুক্ত মোস্তফা কামাল জানান, আমি কমিটির সম্মতি নিয়ে রেজল্যুশনের মাধ্যমে মসজিদের উন্নয়নের জন্য ১২ লাখ টাকা জমি বিক্রি করে ৫ লাখ টাকা বায়না গ্রহণ করেছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ কামাল জানান, এ ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি। দেশের করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত