ক্রেতাশূন্য নীলফামারীর কাঁচাবাজার, বিপাকে কৃষক

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০২০, ০১:১৭ পিএম

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে টানা ১০ দিনের ছুটিতে দেশ। সংক্রমণ ঠেকাতে ঘরে থাকতে বলা হয়েছে মানুষকে। ফলে মানুষ জরুরি প্রয়োজন ছাড়া খুব একটা বের হচ্ছেন না বাড়ি থেকে। আর তাই উত্তরের জেলা নীলফামারীর কাঁচাবাজারে পড়েছে করোনার প্রভাব। 

শনিবার দুপুরে শহরের কাঁচা শাক-সবজির বাজার ঘুরে দেখা গেছে বেগুন দুই থেকে পাঁচ টাকা, ক্ষিরা পাঁচ টাকা, টমেটো ১৫ থেকে ২০ টাকা, বিভিন্ন জাতের আলু ১৫ থেকে ২২ টাকা, মরিচ ২৫ থেকে ৩০ টাকা, করলা ২৫ থেকে ৩০ টাকা, পেঁয়াজ ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে।

দামে সস্তা হলেও দোকানগুলো ছিল ক্রেতাশূন্য। এতে বিপাকে পড়েছেন কৃষকসহ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

জেলা সদরের ইটাখোলা ইউনিয়নের উত্তর কানিয়ালখাতা গ্রামের কৃষক জিল্লুর রহমান (৫০) বলেন, অনেক আশা নিয়ে তিনি এবার বেগুন আবাদ করেছেন দেড় বিঘা জমিতে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির বিপাকে পড়ে ফসলের দাম না পেয়ে মাথায় হাত পড়েছে তার।

নিজের জমিতে চাষ করা পাঁচ বস্তা বেগুন নিয়ে সকালে এসেছিলেন বাজারে বিক্রি করতে। ইচ্ছা ছিল পাইকারের কাছে বিক্রি করে ফিরে যাবেন বাড়িতে। কিন্তু পর্যাপ্ত পাইকার না থাকায় দুপুর পর্যন্ত দাঁড়িয়ে প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি করেছেন দুই থেকে তিন টাকা কেজিতে।

তিনি বলেন,‘গত বছর দেড় বিঘা জমির বেগুন বিক্রি করে আয় করেছিলাম দেড় লাখ টাকা। এবারের পরিস্থিতিতে উৎপাদন খরচ উঠানো সম্ভব হবে না।’

তার মতো অবস্থা ওই গ্রামের কৃষক মো. ছকিমদিন (৫৫), সামসুল হকসহ (৫৬) শতাধিক কৃষকের।

তারা বলেন,‘শাক-সবজি কাঁচা পণ্য হওয়ায় ফলন আসার সময়েই বিক্রি করতে হয়। কিন্তু এবার এ সময়ে করোনাভাইরাসের প্রভাব পড়ায় আমাদের কপাল পুড়েছে। এখন যে দামে বিক্রি করতে হচ্ছে তাতে পরিবহন খরচও উঠছে না, সেখানে ফসলের দাম পাবো উঠাবো কিভাবে।

গ্রামে কাঁচা শাক-সবজি সংগ্রহ করে বাজারে এনে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন পঞ্চপুকুর ইউনিয়নের বাজিতপাড়া গ্রামের জামিয়ার রহমান (৫৫)।

তার ওই আয়ের উপর নির্ভরশীল পরিবারের নয় সদস্য। করোনা পরিস্থিতিতে ক্রেতা না থাকায় থেমে গেছে তার জীবিকার পথ। অন্যান্য দিন ওই বাজারে বেলা ১২টার মধ্যে তার দোকানের শাক-সবজি বিক্রি শেষ হলেও ক্রেতার পথ চেয়ে বসে ছিলেন বেলা দুইটা পর্যন্ত।

তিনি বলেন,প্রতিদিন ব্যবসা করে আয় করি তিন থেকে সাড়ে তিনশ টাকা। তাতেই চলে আমার পরিবারের খাওয়া খরচ। গত তিন দিন ধরে ক্রেতা না থাকায় আমার আয় হচ্ছে এক থেকে দেড়শ টাকা। ওই টাকায় আমার সংসার চলে না।

ওই বাজারের বড় ব্যবসায়ী আব্দুল হাকিম জানান, পাইকারি বাজারে প্রতিদিন শাক-সবজির আমদানি প্রচুর। কিন্তু ক্রেতা না থাকায় বিক্রি হচ্ছে না। ফলে অনেকে শাক-সবজি বাজারে এনে ফেরত নিয়ে যাচ্ছেন। অনেকে আবার বিক্রি করতে না পেরে বাজারেই রেখে চলে যাচ্ছেন। এমন মন্দাভাবে বেশি বিপাকে পড়েছেন কৃষক।

নীলফামারী জেলা শহরের বড়বাজারের কাচা শাক-সবজির আড়তদার মোহাম্মদ মাহমুদ আলী বকুল বলেন, ‘বাজারে মৌসুমী কাঁচা সবজির আমদানি পরিমাণমতো আছে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে বাজার প্রায় ক্রেতাশূন্য। এতে উৎপাদনকারী কৃষক ও ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত