বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধীরে ধীরে বেড়ে চলছে। ৮ মার্চ প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর থেকে এখন দেশে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় অর্ধশত। এর মধ্যে মারা গেছেন পাঁচজন। এছাড়া করোনা লক্ষণ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। ঢাকাসহ সারা দেশে অল্প কিছু হাসপাতালে খোলা হয়েছে করোনা ইউনিট। এ অবস্থায় করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করলে প্রয়োজন হবে আরও চিকিৎসাকেন্দ্র। সেই চিন্তা থেকেই যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল প্রয়োজনে দেশের প্রতিটি স্টেডিয়ামকে করোনা চিকিৎসাকেন্দ্র নির্মাণের জন্য ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নামকরা সব স্টেডিয়ামকে পাল্টে ফেলা হয়েছে করোনা চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে। রাসেলও চান ক্রীড়া স্থাপনা বিশেষ করে ইনডোর স্টেডিয়ামগুলোকে প্রয়োজনে করোনা চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে বদলে ফেলতে।
রবিবার সচিবদের সঙ্গে আলোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী, ‘সরকার করোনা মোকাবিলায় এরমধ্যে সম্ভাব্য সব প্রস্তুতি নিয়েছে। বাংলাদেশে করোনাভাইরাস এখনো মহামারী রূপ ধারণ করেনি। তবে আমাদের আত্মতুষ্টিতে ভোগার সুযোগ নেই। যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে প্রস্তুত আছি। দেশের সব স্টেডিয়াম বিশেষ করে ইনডোর স্টেডিয়ামগুলো স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের চাহিদামাফিক করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করতে পারবে। আমরা এরইমধ্যে ঢাকা মহানগরীসহ দেশের প্রধান প্রধান স্টেডিয়ামগুলো করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের আবাসনের ব্যবস্থা করেছি।’
ঢাকাসহ সারা দেশের মোট ৮০টি জেলা স্টেডিয়াম এবং ১২৫টি উপজেলা মিনি স্টেডিয়াম আছে। করোনা মোকাবিলায় এই স্থাপনাগুলো ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মন্ত্রী। এছাড়া সমাজের ধনাঢ্য ব্যক্তিদের সহায়তায় রাসেল নিজ এলাকা গাজীপুরের সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য খাদ্যসামগ্রী বিতরণের বড় উদ্যোগ নিয়েছেন। করোনা পরিস্থিতিতে দুস্থ ক্রীড়াবিদদের কী করে সহায়তা দেওয়া যায় এ নিয়েও পরিকল্পনা করতে শুরু করেছেন বলে জানান।
