সাড়ে ৮ হাজার প্রবাসীর বেশিরভাগের হদিস নেই

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২০, ১১:৫৭ পিএম

শরীয়তপুরে গত দুই মাসে ৮ হাজার ৪৬৪ প্রবাসী এসেছেন। এর মধ্যে বুধবার দুপুর পর্যন্ত ৬৬২ ব্যক্তি হোম কোয়ারেন্টাইনের আওতায় এসেছেন। ৪৫৫ জন প্রবাসীর হোম কোয়ারেন্টাইন শেষ হওয়ায় তাদের অবমুক্ত করা হয়েছে। এর বাইরে যেসব প্রবাসী এসেছেন, তাদের খুঁজে পায়নি স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন।

এতে এই জেলায় করনোভাইরাসের সংক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ১১ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত ৩ হাজার ৪৬৪ ব্যক্তি বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছেন। এর আগে ১১ ফেব্রম্নয়ারি থেকে ১০ মার্চ পর্যন্ত আরও ৫ হাজার ব্যক্তি ফিরেছেন। এর মধ্যে হোম কোয়ারেন্টাইনের আওতায় যারা এসেছেন, তাদের ছাড়া অন্যদের নিকটবর্তী থানা ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে জেলা প্রশাসন। কিন্তু ওই গণবিজ্ঞপ্তিতে অনেকেই এখনো পর্যন্ত সাড়া দেননি।

এ অবস্থায় মানুষকে সচেতন করতে ঘরে থাকতে, নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে এবং বিদেশফেরত ব্যক্তিদের হোম কোয়ারেন্টাইনের নিয়ম মানতে জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ ও সেনাবাহিনী মাঠে কাজ করছে।

পাশাপাশি তরুণদের বিভিন্ন সংগঠন ও রাজনীতিবিদেরা করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ নানা সরঞ্জাম বিতরণ অব্যাহত রেখেছেন। জেলা প্রশাসন, পানিসম্পদ উপমন্ত্রী, স্থানীয় সাংসদ, বিভিন্ন সংগঠন ও সংস্থা গবিরদের নিত্যপণ্য ও খাদ্য বিতরণ করছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুরের দেড় লাখ মানুষ ইতালি, ফ্রান্স, আমেরিকা, সৌদি আরব, দুবাই, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে থাকেন। এর মধ্যে জেলার নড়িয়ার ৭০ শতাংশ লোক ইতালিতে থাকেন।

শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন ডা. এস এম আব্দুল্লাহ আল মুরাদ বলেন, যেসব প্রবাসী মার্চ মাসের আগে এসেছেন তারা ১৪ দিন পার করেছেন। তাদের আমরা হোম কোয়ারেন্টাইনে আনব না। এর বাইরে বিদেশফেরত এলাকায় এসেছেন আমরা তাদের হোম কোয়ারেন্টাইনের আওতায় এনেছি।

শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার এস এম আশরাফুজ্জামান বলেন, ইমিগ্রেশন তথ্য অনুসারে শরীয়তপুরের ঠিকানা ব্যবহারকারী সাড়ে ৮ হাজার প্রবাসী বাংলাদেশে এসেছেন। তারা হতে পারে ব্যবসায়ী, রোগীসহ বিভিন্ন পেশাজীবীর লোক। তবে এর মধ্যে হোম কোয়ারেন্টাইনের আওতায় এসেছেন ৬৬২ ব্যক্তি।

জেলার প্রতিটি এলাকায় আমাদের স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ মনিটরিং টিম রয়েছে। কোনো প্রবাসী ঢাকা অথবা বিভিন্ন স্বজনদের বাসা থেকে এলাকায় এলে ওই সব মনিটরিং টিম আমাদের খবর দেয়। যারা ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনের আওতায় আসেননি, তাদের জন্য তাৎক্ষণিক হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার ব্যবস্থা করছি।

জেলা প্রশাসক কাজী আবু তাহের বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং কর্মচারীরা নিম্ন আয়ের মানুষ ও দুস্থদের কাছে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছে। আমরা সবাইকে সরকারের নির্দেশ ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিজেসহ দেশকে বাঁচানোর বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত