করোনা প্রাদুর্ভাবের মধ্যেই যুক্তরাজ্যের বিরোধী দল লেবার পার্টির শীর্ষ নেতার পদে রদবদল হচ্ছে। জেরেমি করবিনের জায়গায় নতুন নেতা নির্বাচিত করতে দলটির ৫ লাখের বেশি সদস্য ভোট দিয়েছে। দলীয় সদস্যদের ভোটে পার্টির নতুন নেতা নির্বাচিত হয়েছেন দলের ব্রেক্সিট মুখপাত্র কেইর স্ট্রামার। নির্বাচনের আগেই তার নাম সবচেয়ে বেশি শোনা যাচ্ছিল।
করোনার বিস্তার রোধে যুক্তরাজ্য জুড়ে লকডাউন পরিস্থিতির কারণে নেতা নির্বাচনী বিশেষ সম্মেলন বাতিল করা হয়েছে। এমতাবস্থায় পার্টির পক্ষ থেকে গতকাল সকালের মধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তাদের বিজয়ের বক্তব্য আগেই রেকর্ড করে রাখতে বলা হয়েছিল।
গত ডিসেম্বরে লেবার পার্টির হতাশাজনক পরাজয়ের পর থেকেই কেইর স্ট্রামার পার্টিকে ঢেলে সাজানোর কথা বলে আসছেন। ১৯৩০ সালের পর এবারই প্রথম লেবার পার্টি এমন পরাজয়ের মুখোমুখি হয়েছে। এমনকি যেসব আসনে লেবার নেতারা নিরঙ্কুশভাবে জয়ী হয়ে আসছিলেন সেখানেও বরিস জনসন নেতৃত্বাধীন কনজারভেটিভ পার্টি জয় পায়। এই নির্বাচন ছিল জেরেমি করবিনের দ্বিতীয় নির্বাচনী পরাজয়। ওই পরাজয়ের পর থেকেই করবিনের জায়গায় নতুন নেতা খোঁজা হচ্ছিল। পর্যবেক্ষকদের মতে, করবিনের বিপরীতে স্ট্রামারের এজেন্ডাগুলোর মধ্যে একমাত্র শক্তিশালী এজেন্ডা হলো সমাজতান্ত্রিক কর্মপরিকল্পনা রহিতকরণ। গত বৃহস্পতিবার সমর্থকদের উদ্দেশে এক ভিডিও কনফারেন্সে স্ট্রামার বলেন, ‘পার্টিকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর সুযোগ পেয়েছি আমরা। সবচেয়ে বড় কথা, লেবারদের হারানো শক্তি ফিরে পাওয়ার সময় হয়েছে। এর মাধ্যমেই আমরা ক্ষমতা ফিরে পাব।’
স্ট্রামারের বিপরীতে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী আছেন রেবেকা লং বেইলি। তিনি পার্টির বাণিজ্যসংক্রান্ত মুখপাত্র ও করবিনের ঘনিষ্ঠ। এরপরেই আছেন এমপি লিসা নন্দি। ট্রেড ইউনিয়নের আন্দোলনের মধ্য দিয়েই যুক্তরাজ্যে লেবার পার্টির বিকাশ। কিন্তু সাবেক লেবার নেতা ও প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের আমলে পার্টি তার রাজনৈতিক কেন্দ্র থেকে সরে যায়। ফলে ব্লেয়ার-পরবর্তী পার্টিতে নেতৃত্ব সংকট তৈরি হয়। পার্টির তৃতীয় সারির নেতা করবিন ক্ষয়িষ্ণু সমাজতান্ত্রিক চিন্তাকে কেন্দ্র করে শেষ ঝলকে নেতৃত্বে চলে আসেন, যা ছিল উদারপন্থি লেবারদের কাছে বিশাল ধাক্কা। নটিংহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক স্টিভেন ফিল্ডিংয়ের মতে, ‘লেবার পার্টিতে অবিশ্বাসের বাজে রক্ত প্রবেশ করেছে। পার্টির সদস্যরা যে একত্রিত হতে পারেন, এমনটা দেখাতে হবে।’
