‘কয়দিন ধরে অর্ধাহারে আছি,খাবার পাচ্ছি না। কোথাও কাজ নেই। করোনায় মারা না গেলেও ক্ষুধায় মারা যাবো আমরা। পুলিশের কিছু খাবার ছাড়া আর কেউ খোঁজ নেয়নি।’ এভাবেই বলছিলেন চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বটতলী আশ্রয়ণ প্রকল্প ও হাজীগাঁও গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দারা।
জানা যায়, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে নানা পদক্ষেপের কারণে বিপাকে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ। দিন এনে দিনে খাওয়া এসব মানুষের হাতে সঞ্চিত টাকা না থাকায় সংসার চালানোর দুশ্চিন্তায় ভুগছেন তারা।
দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করে তারা সংসার চালান। কিন্তু গত এক সপ্তাহ ধরে করোনাভাইরাসের কারণে কাজ পাচ্ছেন না তারা।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার বটতলী আশ্রয়ণ প্রকল্প তিনটিতে দেড়শ আর হাজীগাঁও গুচ্ছগ্রাম দুটিতে ৭০ পরিবারের সহস্রাধিক নারী-পুরুষ ও শিশুদের বাস।
কেউ রিকশা-ভ্যান চালিয়ে আবার কেউ কেউ দিনমজুরির কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তবে করোনার কারণে সামাজিক বিচ্ছিন্নতাকরণ শুরু হওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে কাজ। এতে বেকার হয়ে পড়েছেন এখানকার বাসিন্দারা।
বটতলী আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা সেলিম রেজা বলেন, দুই তিন দিন ধার কর্জ করে ৬ সদস্যের পরিবার চালিয়েছি। সবারই অভাব,এখন সেটাও পাচ্ছি না। আশপাশের লোকজন পুলিশের ত্রাণসামগ্রী পেলেও আমরা পাইনি।
হাজীগাঁও গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দারা উকিল আহমদ বলেন, কাজ করে আমরা যা মজুরি পায় তা খাবার কিনতে চলে যায়। সঞ্চয় বলতে আমাদের কিছু নেই। কয়েকদিন ধরে আমরা বেকার হয়ে পড়েছি। যার ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছি।
এ বিষয়ে আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জোবায়ের আহমেদ বলেন, ইতিমধ্যে সেখানে ১৬০ পরিবারে পুলিশের খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। যারা পাননি তাদেরকেও খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে।
