সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার মাধাইনগর ইউনিয়নের সরাপপুর গ্রামের আব্দুস ছাত্তারের ছেলে ও পোশাক শ্রমিক জিহাদুল ইসলাম জিহাদ (১৮) সোমবার দুপুরে করোনা ভাইরাস উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন।
এ ঘটনার পর ওই বাড়ি সহ আশপাশের ১০টি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। ওই বাড়ির লোকদের হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে মাধাইনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু হাসান মির্জা জানান, জিহাদুল ইসলাম ঢাকা থেকে গত ১ এপ্রিল বুধবার হাঁচি-কাশি নিয়ে বাড়ি আসে। এরপর তার জ্বর, প্রচন্ড গলা ব্যাথা ও পাতলা পায়খানা শুরু হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে সোমবার বেলা ১২ টার দিকে তাকে পরিবারের লোকজন সিরাজগঞ্জের হাটিকুমলরুল কেয়ার হাসপাতালে নেয়। সেখানে করোনা সন্দেহে তাকে চিকিৎসকরা চিকিৎসা না দিয়ে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেয়। এরপর তাকে বগুড়ায় যাওয়ার পথে বেলা ২ টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
তারা আরো বলেন, ইতোমধ্যেই তাড়াশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি চিকিৎসক দল তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য রামেক হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছেন। এ ছাড়া সকল নিয়ম মেনে তার দাফস সম্পন্ন করা হবে।
এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. জামাল উদ্দিন শোভন বলেন, মৃত পোশাক শ্রমিকের বাড়িতে মেডিকেল টিম পাঠিয়ে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য রামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সরকারি নিয়ম মেনে তার দাফন সম্পন্ন করা হবে।
এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইফফাত জাহান বলেন, করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত পোশাক শ্রমিকের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে সে করোনায় আক্রান্ত ছিল কিনা। এ ছাড়া এ ঘটনার পর ওই বাড়ি সহ আশপাশের ১০টি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। ওই বাড়ির লোকদের হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।
সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, জ্বর-সর্দিতে আক্রান্ত হলেও প্রথমদিকে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়নি। সোমবার দুপুরে ওই হাসপাতালে নেয়ার পথে সে মারা যায়। এমন খবর পেয়ে তার বাড়িতে মেডিক্যাল টিম পাঠিয়ে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এ নমুনা রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদন পেলে ওই ব্যক্তি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন কিনা সে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।
