ট্রাম্পের হুমকির পর হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন পাঠাতে রাজি ভারত

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০২০, ০২:১৬ পিএম

করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের জন্য ওষুধ হিসেবে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন নিয়ে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে রীতিমতো টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে।

হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন মূলত ম্যালেরিয়ার ওষুধ। করোনার ওষুধ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র এটিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও এই ওষুধের পরামর্শ দিয়েছেন। যদিও এই ওষুধ গ্রহণ করে মৃত্যুর ঘটনা ঘটলে সমালোচিত হন ট্রাম্প।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠায় ট্রাম্প ভারতের কাছে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন সরবরাহ চান। এতে ভারত রাজি না হলে দেশটির বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১ হাজারে দাঁড়িয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লাখ ৭০ হাজারের কাছাকাছি।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ‘গেম চেঞ্জার’ হয়ে উঠতে পারে বলে আগেই জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। কিন্তু হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন বা তার উপাদান বিদেশে রপ্তানির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল ভারত সরকার।

এখন ওই ওষুধটি না পেলে ভারতকে ফল ভুগতে হবে বলে সোমবার হুঁশিয়ারি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘আমি অবাক হব যদি উনি (নরেন্দ্র মোদি) এই সিদ্ধান্ত নেন, আপনারা জানেন। কারণ ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক খুব ভালো।’

ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা চাপানো হলে উল্টো ফল হবে। তার (মোদি) এই সিদ্ধান্তের কথা আমাকে জানানো উচিত ছিল। আমি তাকে বলেছি, আমরা আপনার প্রশংসা করব, যদি তিনি আমাদের ওষুধপত্র ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করেন।’

এরপর হুমকির সুরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘যদি তারা ওষুধ সরবরাহের অনুমতি না দেন তা হলে ঠিক আছে। তার ফলও ভুগতে হবে।’

তবে ট্রাম্পের এমন হুঁশিয়ারির চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে মঙ্গলবার হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন রপ্তানি নিয়ে আগের অবস্থান থেকে কিছুটা সরে আসে নয়াদিল্লি। করোনায় যে সব দেশ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত, তাদের ওই ওষুধ সরবরাহ করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে গত ২৯ মার্চ করোনা মোকাবিলায় ভারতকে ২৯ লাখ ডলার সাহায্য দেয়ার ঘোষণাও দিয়েছিল ট্রাম্প। সেটিকে বিবেচনায় আনে মোদি সরকার।

এ দিন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব বলেন,  ‘ভারত সব সময়েই আন্তর্জাতিক সংহতি ও সহযোগিতার কথা বলে এসেছে। এই মহামারির সময়ে মানবতার কথা ভেবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, ভারত প্যারাসিটামল এবং হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের মতো ওষুধ যথাযথ পরিমাণে আমাদের প্রতিটি প্রতিবেশী দেশকে সরবরাহ করা হবে যারা আমাদের দিকে চেয়ে রয়েছে। যে সব দেশ করোনায় দারুণ ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেখানেও আমরা এই প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করব।’ 

বিশ্ব জুড়ে সংকট ও মানবাধিকারের জায়গা থেকেই ২৫ মার্চ এই ওষুধটি রপ্তানিতে আংশিক ছাড় দেওয়া হয়েছিল।  কিন্তু ভারতের করোনা পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে উঠলে ৪ এপ্রিল ফের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এর  মধ্যে সার্বিয়াকে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী রপ্তানির অনুমতি দিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয় মোদি সরকারকে। 

ভারতে চাহিদা অনুযায়ী জোগান না থাকায় সদ্য দুটি সংস্থাকে জরুরি ভিত্তিতে মোট ১০ হাজার কোটি হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ট্যাবলেট সরবরাহের পদক্ষেপ নিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। ভারতে প্রতি মাসে মোট ২০ কোটি ট্যাবলেট তৈরি করা সম্ভব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত