কোটালীপাড়ায় স্বেচ্ছায় লকডাউন অর্ধশতাধিক বাড়ি

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০২০, ০৫:৩৭ পিএম

বাড়ির আসা যাওয়া পথের সমানে বাঁশের ব্যারিকেড দেওয়া। তাতে একটি সাইনবোর্ড ও একটি লাল পতাকা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। সাইনবোর্ডটিতে লেখা রয়েছে, বাড়ি লকডাউন, দয়া করে কেউ আসা যাওয়া করবেন না। সৌজন্যে ভিপি লিটন শেখ।

এমনই বাঁশের ব্যারিকেড ও সাইনবোর্ড রয়েছে অর্ধশতাধিক বাড়িতে। প্রশাসন এখনো গোপালগঞ্জ লকডাউন না করলেও কোটালীপাড়া উপজেলার তাড়াশী গ্রামে করোনাভাইরাস আতঙ্কে নিজেদের উদ্যোগেই নিজেদের অর্ধশতাধিক বাড়ি লকডাউন করেছে এলাকাবাসী।

জানা গেছে, করোনাভাইরাস রোধে গোপালগঞ্জের বিভিন্ন হাট-বাজার. মার্কেট ও দোকান বন্ধ রয়েছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে সচেতনতা সৃষ্টি করতে নানাভাবে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে প্রশাসন। এতে সেনাবাহিনীও সহযোগিতা করছে।

করোনাভাইরাস নিয়ে অধিকাংশ জনগণের মধ্যে তেমন একটা আতঙ্ক দেখা যায়নি। ফলে বিভিন্ন স্থানে অবাধে ঘোরাফেরা করছে সাধারণ মানুষ।

তাই করোনা রোধে নিজেদের উদ্যোগে কোটালীপাড়া উপজেলার তাড়াশী গ্রামের তিনটি পয়েন্টে বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে অর্ধ শতাধিক বাড়ি লকডাউন করে দেয়।

যুবলীগ নেতা কোটালীপাড়া শেখ লুৎফর রহমান ডিগ্রি কলেজের সাবেক ভিপি লিটন শেখের নেতৃত্বে এসব বাড়ি লকডাউন করা হয়। নিজ উদ্যোগে বাড়ি লকডাউন করায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই নিজ উদ্যোগে বাড়ি বা এলাকা লকডাউন করার কথা ভাবছেন।

লকডাউন হওয়া পরিবারের সদস্য ইস্রাফিল শেখ বলেন, আমি ও আমার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আতঙ্কে রয়েছি। সবখানেই অবাধে ঘোরাফেরা চলছে। যে কারও মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়াতে পারে। সে জন্য আমার বাড়ি আমি নিজে লকডাউন করে দিয়েছি।

এ ব্যাপারে যুবলীগ নেতা কোটালীপাড়া শেখ লুৎফর রহমান ডিগ্রি কলেজের সাবেক ভিপি লিটন শেখ বলেন, করোনাভাইরাসে আমরা সবাই আতঙ্কিত হলেও সাধারণ মানুষের মাঝে কোন প্রভাব পরেনি। এতে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছি। যে কারণে আমাদের এলাকার তিনটি পয়েন্টে বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে লাল পতাকা ও সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে দিয়ে অর্ধশতাধিক বাড়ি লকডাউন করে দিয়েছে।

কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মাহফুজুর রহমান বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে এখনো কোন এলাকা লকডাউন করার কোন পরিকল্পনা নেই। তবে তারা এটা নিজেদের উদ্যোগে করেছেন। এ বিষয়টি আমাদের এখনো তারা জানায়নি। মানুষ যাতে ঘরে থাকে সে বিষয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি আমরা। বিভিন্ন স্থানে মাইকিং করে সচেতন করা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত