দু্বাইয়ে আটকে পড়া ২৮ জন প্রবাসীকে খাবার সহায়তা দিলেন সুজানা জাফর। বুধবার ডেইরা দুবাই, সাবকা রোডে বসবাসরত ১৩ প্রবাসীদের কাছে কমপক্ষে ১৫ দিনের খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন সুজানা জাফর। অন্য সময়ে ১৫ জন প্রবাসীর কাছে খাবার সহায়তা পাঠান। সর্বমোট ২৮ বাংলাদেশি প্রবাসীকে সহায়তা করেন সুজানা।
সুজানা জানান, আমার ফেসবুক পেজে সেখান থেকে ২ জন তাদের অবস্থার কথা জানায়। এরপর তাদের থেকে পরিচয়পত্রের ছবি নিয়ে নিশ্চিত হয়েছি এবং জানতে পেরেছি ওই মানুষগুলো করোনার প্রভাবে লকডাউনে কতটা অসহায় দিন পার করছে। এর মধ্যে তাদের খাবার সংকট দেখা দিয়েছে। এরপর সুপারশপ থেকে ভাইয়ের মাধ্যমে তাদের বাসায় খাবার পৌঁছে দিয়েছি। এ অবস্থায় আমি বাসার বাইরে যেতে পারছি না। সবচেয়ে বেশি ভালো লাগত মানুষগুলোকে নিজ হাতে রান্না করে যদি খাওয়াতে পারতাম।
দুবাইতে থাকা ওই প্রবাসীর বেশির ভাগ বাড়ি চট্টগ্রাম, কুমিল্লায়। তাদের একজন জানান, গত ২০-২২ দিন তারা গৃহবন্দী। কাজ বন্ধ। মোটেও বাইরে যেতে পারছেন না। বেতনও হাতে পাননি। খাওয়াদাওয়ায় বেশি সমস্যায় পড়েছেন গত ২ দিন।
সুজানা জাফরের ভক্ত হওয়ায় তার ফেসবুক ফলো করতেন। সেখানে তিনি প্রয়োজনে মানুষকে সাহায্যের আশ্বাস দেন। সুজানার পোস্ট দেখে তার ইনবক্সে যোগাযোগ করলে তিনি বিপদে পাশে দাঁড়ান। কয়েক দিনের খাদ্যসামগ্রী পাঠিয়েছেন। তার জন্য প্রাণ খুলে দোয়া দিচ্ছি।-বলছিলেন দুবাই প্রবাসী সেই বাংলাদেশি।
কক্সবাজারের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক দুবাই প্রবাসী থাকেন বানিয়াসে। তিনি সুজানাকে বাস্তব জীবনের ‘সুপারহিরো’ উল্লেখ করে আবেগতাড়িত হয়ে বলেন, যখনই অনাহারে থাকার মতো অবস্থা আমাদের, কী করব বুঝে উঠতে পারছিলাম না; তখন আমাদের সমস্যা জানতে পেরে ১৫ জন সদস্যের প্রায় দুই সপ্তাহের খাবার পাঠিয়ে দিয়েছেন সুজানা আপা। অন্য কোনো অসুবিধে আছে কিনা বারবার খোঁজ নিয়েছেন। বিদেশে থেকে উনি যেভাবে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন জানি না দেশে থাকলে আপন মানুষরাও এমন করত কিনা।
সুজানা বলেন, দেশে কষ্টে থাকলে কেউ না কেউ সাহায্য করে। কিন্তু বিদেশে সবাই সবার অচেনা। কেউ পাশে দাঁড়ায় না। ভবিষ্যতে অবস্থার পরিবর্তন না হলে আমি তাদের আরও খাবার দিতে চাই। এমন খারাপ সময়ে থাকা দুবাই প্রবাসী কেউ থাকলে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করলে আমি চেষ্টা করব পাশে থাকার জন্য।
