ফেনীতে জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে নুর নবী (৬০) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে বৃহস্পতিবার রাতে তার মৃত্যু হয়। এর আগে বুধবার তাকে চিকিৎসা দিতে অ্যাম্বুলেন্স গেলেও পরিবার তা ফিরিয়ে দেয়।
ওই ব্যক্তি নারায়ণগঞ্জ জেলায় একটি মাছের আড়তে কাজ করতেন। তিনি ফেনী সদর উপজেলার ফাজিলপুর ইউনিয়নের শিবপুর এলাকার আবদুল্লাহ মৌলভীর নতুন বাড়ির (প্রফেসর মামুনের বাড়ির) বাসিন্দা।
তার মৃত্যুর পর ওই এলাকা লকডাউন করেছে প্রশাসন। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় ফাজিলপুর ইউপি সদস্য মাহমুদুন নবী বাবর জানান, ২৪ মার্চ নবী ও তার ছেলে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রামের বাড়ি চলে আসেন। তারপর থেকে নুর নবী জ্বর ও গলাব্যাথায় ভুগছিলেন। মঙ্গলবার নবীর জ্বর-গলাব্যাথা ও শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে বাড়ি থেকে তার ছেলে এক চিকিৎসককে মোবাইলে যোগাযোগ করে চিকিৎসা নেয়ার চেষ্টা করেন। চিকিৎসক করোনার উপসর্গ থাকায় তাদের ঠিকানা জিজ্ঞেস করলে ওই ছেলে কথা শেষ না করে মোবাইল বন্ধ করে দেন। পরে চিকিৎসক স্থানীয়দের সহযোগিতায় নুর নবীর বাড়ি শনাক্ত করলে বুধবার রাতে প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে ওই এলাকা লকডাউন করা হয়।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মজিবুল হক রিপন জানান, ঘটনাটি জানতে পেরে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে নবীকে হাসপাতালে নিতে অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয়। কিন্তু তার পরিবার ও স্বজনদের বাধার মুখে অ্যাম্বুলেন্স ফিরিয়ে দেয়া হয়। তারপরও বৃহস্পতিবার তার দেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষাগারে পাঠানোর ব্যবস্থা করে স্বাস্থ্য বিভাগ।
ফেনী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরীন সুলতানা জানান, আমরা যখন খবর পেয়েছি তখন ওই ব্যক্তির অবস্থা কিছুটা সংকটাপন্ন ছিল। তখনই ওই ব্যক্তিকে আইসোলেশনে নিয়ে ভেন্টিলেটর দেওয়ার প্রয়োজন মনে হয়েছিল। কিন্তু পরিবারে বাধার মুখে অ্যাম্বুলেন্স ফিরে আসে। মৃত্যুর পর তার নমুনা নিয়ে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। রাত ৭টার দিকে তার মৃত্যু হয়। রাতেই বিশেষ ব্যবস্থায় তাকে দাফনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকা লকডাউন করা হয়েছে।
