করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে লকডাউন ভারত থেকে দেশে ফেরত আসা বাংলাদেশিদের বাধ্যতামূলক ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোরেন্টাইনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এদিকে, সেখানে অদক্ষতা-ব্যর্থতা ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখা ব্যক্তি ও তাদের স্বজনরা।
গত বুধবার ক্যানসার আক্রান্ত মায়ের চিকিৎসা শেষে ভারতে আটকে পড়া বাংলাদেশি নাগরিক জিন্নাত আরা তার কোয়ারেন্টাইনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ফেসবুকে পোস্ট দেন। তিনি নিজের টাইমলাইনে কিছু ভিডিও চিত্রও শেয়ার করেন। সেখানে বাস্তবিক অর্থেই চূড়ান্ত অব্যবস্থাপনাসহ রোগী এবং তার স্বজনদের ভোগান্তির এক ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।
জিন্নাত আরার ফেসবুক পোস্ট:
প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারান্টাইন পরিস্থিতি ১
গত ৮ এপ্রিল বেনাপোল বর্ডার থেকে ইমিগ্রেশন শেষে বর্ডারের কিছু কাছে একটা এ্যাম্বুলেন্সে গাদাগাদি করে ১২-১৪ জন পার ট্রিপ করে নেওয়া হয় করোনা সংক্রমণ মোকাবিলায় তৈরী প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারান্টাইনে। একটা কমিউনিটি সেন্টার কে কোয়ারান্টাইন সেন্টার হিসেবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সেখানকার চিত্রের একটা বর্ণনা বিগত পোষ্টে দিয়েছি। সেখান থেকে অনেক ক্রিটিকাল পেশেন্টদের ঔষধ সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছিলো না। ক্যান্সার পেশেন্টদের নিয়ে এসে তারা কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে রাখার জন্য যথাযথ প্রস্তুতি তো ছিলোই না উল্টে সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কারোও কাছে কোন সঠিক তথ্য বা নির্দেশনা নাই। একজন সাংবাদিক ভাইয়ের সাহায্যে ব্যক্তিগত খরচে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এলে সেখানেও পরিস্থিতি ওরকমই। তালাবদ্ধ করে আইসোলিউশন ব্লকে রেখে গেলেও তারা রাতের খাবার, পানি কিছুই সরবরাহ করে নাই। ঔষধ রেফ্রিজারেট করার কথাও তাদের মনে ছিলো না। অমানসিক একটা চাপ নিয়ে কোনমতে রাত পার হলে ভোরে যশোর সিভিল সার্জন কে ফোনে পাওয়া গেলে উনি হাসপাতাল সংক্রান্ত ত্রুটি নির্মূলের আশ্বাস দেন। বাকি আর ক্যান্সার পেশেন্টের যথাযথ বিশ্রাম নিশ্চিতে উনার কিছুই করার নাই বলে উনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কে খাবার পানি সরবরাহের নির্দেশ দেওয়ার কথা বলে ফোন রাখেন। সকালে সেখানে যে খাবার দেওয়া হয় তা কখনোও একজন ক্যান্সার পেশেন্টের খেতে পারার কথা নয়৷ পুষ্টিগুন তো দূরে থাক যথেষ্ট স্বাস্থ্যকর ও নয় সেটা। সেখানেও আবার একটা যুদ্ধ করে যশোর সদর হাসপাতাল পর্যন্ত আবার ব্যক্তিগত খরচে আসলাম এখানে মায়ের যথাযথ পরিচর্যার একটা ব্যবস্থা করতে পারবো এই আশায়। অতএব, দেশে ফিরে ৩ বার মুভ করেছি সার্জারী হওয়া ক্যান্সার পেশেন্ট নিয়ে। কোয়ারান্টাইন কে অদক্ষতা ব্যর্থতা ও অব্যবস্থাপনা দিয়ে একটা তামাশা বানানো হয়েছে। কোভিড-১৯ প্রতিরোধে সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনভাবেই এই প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারান্টাইন রক্ষণাবেক্ষণ এবং এখানে সুস্থ ও অসুস্থ উভয় আইসোলেটেড ব্যক্তির নূন্যতম স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও মৌলিক সুবিধা দিতে ব্যর্থ। তারা কেবল জনগণ কে কোনরকম একটা ভাউতাবাজি করে দেখানোর চেষ্টা করছে তারা করোনা প্রতিরোধে দেরি করে হলেও ব্যবস্থা নিয়েছে। অথচ যেই ব্যবস্থার কোন কার্যকারিতা নাই। উল্টে ক্যান্সার রোগী এবং অন্যান্য অসুখের রোগী থেকে শুরু করে শিশু বৃদ্ধসহ সকলকে আরোও বেশি ঝুঁকির মধ্যে ফেলে রেখেছে।
(ফেইসবুক পোস্টের বানান ও ভাষারীতি হুবহু রাখা হয়েছে।)
