পোলারয়েডের তৎক্ষণাৎ ছবি প্রিন্ট দেওয়ার নতুন ক্যামেরা

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০২০, ০২:১৭ এএম

এবার ডিজিটাল বর্ষবরণ ছায়ানটের প্রভাতী আয়োজন বন্ধ। রমনার বটমূল থেকে বাঙালির কানেও আসবে না সুরের ঝঙ্কার। নভেল করোনাভাইরাসের কারণে মুক্তিযুদ্ধের পর এই প্রথম এমন পহেলা বৈশাখ আসছে বাংলাদেশে। ঘরবন্দি সময়ে তবু থেমে থাকবে না উৎসব। হবে অনলাইনে। অনলাইনে বর্ষবরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ছায়ানটের সহসভাপতি শিল্পী খায়রুল আনাম শাকিল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন নিসার হোসেন। ‘আমরা প্রাথমিকভাবে প্রভাতী আয়োজনটি ধারণ করে পহেলা বৈশাখের দিন প্রচার করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সেটি আমরা করব না’ জানিয়ে শাকিল বলেন, ‘কারণ পহেলা বৈশাখের আয়োজনটি আনন্দের উৎসব। বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে করোনা পরিস্থিতির কারণে উৎসব করার চেয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোটা অধিক গুরুত্বপূর্ণ। সেজন্য আমরা সে পরিকল্পনাটি বাদ দিয়েছি।’ তিনি জানান, ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংক্ষিপ্ত আকারে একটি আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যাতে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখবেন ছায়ানট সভাপতি ড. সন্জীদা খাতুন। একই সঙ্গে দুটি গানও থাকবে। রমনার বটমূলে ছায়ানটের বৈশাখবরণ শুরু হয়েছিল ১৯৬৭ সালে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বৈশাখবরণ অনুষ্ঠানটি হয়নি। এবার ছায়ানট বর্ষবরণের প্রস্তুতিও শুরু করেছিল। নির্ধারিত হয়েছিল গানের তালিকাও। কিন্তু সব আয়োজন মাটি করল করোনাভাইরাস। অন্যদিকে জনসমাগম না করে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আপনা-মাঝে শক্তি ধরো, নিজেরে করো জয়’ প্রতিপাদ্য করে এবারে বর্ষবরণের আয়োজন করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ। প্রতিবারই মূল প্রতিপাদ্যের ওপর একটি পোস্টার বের করা হয় অনুষদ থেকে। এবার সেই পোস্টারটি ভার্চুয়ালি প্রকাশ করা হবে। যাতে মূল প্রতিপাদ্যের পাশাপাশি এর ব্যাখ্যাও থাকবে। এ বিষয়ে চারুকলা অনুষদের ডিন নিসার হোসেন বলেন, ‘প্রতি বছরই আমরা পোস্টার করি। এবারও করব। তবে সেটা প্রতিপাদ্যের ব্যাখ্যাসহ। প্রতিবার প্রতিপাদ্যটি আমরা নানা মোটিভের মাধ্যমে তুলে ধরি। এবার সেটি হবে না বলে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’ তিনি জানান, আর্নেস্ট হেমিংওয়ের ‘দি ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য সি’ থেকে ‘মানুষকে ধ্বংস করা যায় কিন্তু পরাজিত করা যায় না’Ñ এ লাইন নেওয়া হচ্ছে। যা দিয়ে প্রতিপাদ্যের ব্যাখ্যা শুরু করা হবে। এভাবেই তারা যা এতদিন মোটিফের মাধ্যমে বলে এসেছেন, সেটা পোস্টারের মাধ্যমে তুলে ধরবেন। প্রতীকীভাবে পহেলা বৈশাখ পালনের পরিকল্পনা করছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটও। শিশুপার্কের সামনে সাংস্কৃতিক সংগঠন ঋষিজ দীর্ঘদিন ধরে নববর্ষ উদযাপনের আয়োজন করে আসছিল। সংগঠনটির প্রধান ফকির আলমগীর জানান, এবারও কর্র্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েছেন। তবে তারা গণমানুষ নিয়ে অনুষ্ঠানের আয়োজন করবেন না। ধারণ করে টেলিভিশনে প্রচারের মাধ্যমে বিকল্প উপায়ে অনুষ্ঠানের কথা ভাবছেন। ১৪ এপ্রিল বাংলা পঞ্জিকার প্রথম দিন। অর্থাৎ নতুন বছরের শুরু। আগের মতো মহাসমারোহে দিনটি উদযাপন না করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপরই মূলত ঘরে বসে ‘ডিজিটাল পদ্ধতিতে’ পহেলা বৈশাখ উদযাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। এমন অবস্থায় পহেলা বৈশাখকে ঘিরে প্রতি বছর যে রকম জমজমাট প্রস্তুতি থাকে, এবারে সে চিত্র পুরোপুরি ভিন্ন। যার একটি প্রভাব পড়েছে এ উৎসবকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বাজারের ওপর। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা। অনলাইনে এ সময়ে প্রচুর কেনাকাটা হয়েছে গত কয়েক বছর। এবার সেসব নেই বললেই চলে!

পোলারয়েড অরিজিনালস তার স্বতন্ত্র নাম ‘পোলারয়েড’-এ ফেরা উদযাপন করতে নতুন একটি ফিল্ম ক্যামেরা বাজারে ছেড়েছে। অটো ফোকাস বডির এই ক্যামেরা দিয়ে আইটাইপ এবং ৬০০ ফিল্ম; দুই ধরনের ক্যাপচারই নেওয়া যায়। বহু মানুষের স্মৃতিবিজড়িত এই ক্যামেরার নতুন সংস্করণ নির্দিষ্ট সময়ের জন্য লাল, কমলা, হলুদ, সবুজ ও নীল রঙে পাওয়া যাচ্ছে। একই সঙ্গে পুরনো সেই সাদা-কালো রঙেও আছে। ক্যামেরাটির দাম শুরু হচ্ছে ১০০ ডলার থেকে। কয়েক যুগ আগে এই ক্যামেরার তুমুল জনপ্রিয়তা ছিল। ক্লিক করে ছবি তোলার পরপরই মৃদু শব্দে ক্যামেরার সামনে দিয়ে কাগজের ছবি বের হয়ে আসত। ম্যাট কাগজের সেই ছবিগুলো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নষ্ট হয়ে যেত। এখন তাই ফিল্মের ব্যবস্থা করেছে কোম্পানিটি। পোলারয়েডের নতুন ক্যামেরাটি আগের মডেলগুলোর চেয়ে তুলনামূলক ছোট। রঙিন ছবি তোলার জন্য যে ফিল্ম ব্যবহার করতে হবে, সেটির দাম ১৭ ডলারের মতো।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত