সারাদেশে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সরকারিভাবে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হলেও চা শ্রমিকদের এ ছুটির বাইরে রাখা হয়েছে। এর প্রতিবাদে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের ২৩টি চা-বাগানে একযোগে মানবন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
শনিবার সকালে চা শ্রমিকরা সামাজিক নিরাপত্তা বজায় রেখে এ কর্মসূচি পালন করেন।
সকাল সাড়ে ৮টায় শমশেরনগর চা-বাগান কারখানার প্রধান ফটকের সামনে চা বাগান পঞ্চায়েত নিপেন্দ্র বাউরীর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসিবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ চা শ্রমকি ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরী।
এসময় আরও বক্তব্য রাখেন চা শ্রমিক ইউনিয়নের মনু-ধলাই ভ্যালির কার্যকরী কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্মল দাশ পাইনকা, চা শ্রমিক নেতা সীতারাম বীন, মোহন রবিদাস ও চা বাগান কর্মচারী পরিষদের আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি তানভীর হাসান।
সকাল সাড়ে ৯টায় আলীনগর চা-বাগান কারখানার প্রধান ফটকের সামনে চা-বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি গনেশ পাত্রের সভাপতিত্বে ও সজল কৈরীল সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ চা বাগান কর্মচারী পরিষদের আলীনগর ইউনিটের সদস্য দীপক বাড়ই, সীতারাম বীন ও রামভজন কৈরী।
একই সময়ে চাতলাপুর চা বাগান, মাধবপুর, পাত্রখোলা,ধলই, মদনমোহনপুর, কুরমা, চাম্পারায়, ফুলবাড়িসহ ফাঁড়ি ও মূল মিলিয়ে কমলগঞ্জের মোট ২৩টি চা-বাগানে একযোগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরী তার বক্তব্যে বলেন, চা বাগান এলাকা অনেকটা অসচেতন। এখানকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা খুবই নাজুক। তারা মনে করেন চা বাগান মালিক পক্ষের সংগঠন বাংলাদেশীয় চা সংসদের কর্তা ব্যক্তিরা প্রধানমন্ত্রীকে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে চা-বাগানের সাধারণ ছুটি বন্ধ রেখেছেন। চা বাগানে করোনাভাইরাস সংক্রমিত হলে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতদিন অপেক্ষার পর ৭ এপ্রিলের জরুরি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শনিবার সারাদেশের ২৩০টি চা বাগানে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছে চা শ্রমিকরা।
মানববন্ধন শেষে চা বাগানে সাধারণ ছুটির দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রেরণ করা হবে।
