‘ম্যায়নে প্যায়ার কিয়া’ এখন নির্মিত হলে নায়িকার লিপস্টিকের দাগে কি ঠোঁট রাখতেন সালমান? এর সোজা সাপটা জবাব হলো ‘না!’। নায়ক সালমান খান একটি ভিডিওতে নিজেই জানালেন সেই উত্তর। কারণ করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব। এ কারণেই বেকুবের মতো নায়িকার লিপস্টিকের দাগের ওপর ঠোঁট রাখবেন না সালমান। কারণ কেইবা কে বলতে পারে, নায়িকার শরীরে এই ভাইরাস আছে কিনা?
১৯৮৯ সালের ব্লকবাস্টার ছবি সূরজ বরজাতিয়ার ছবি ‘ম্যায়নে প্যায়ার কিয়া’। এই ছবি দিয়ে ভাগ্যশ্রী বলিউডে এসেছিলেন, দেখেছিলেন আর জয় করেছিলেন। গান থেকে সংলাপ হয়ে পোশাক পর্যন্ত হুবহু কপিক্যাট করেছিলেন নব্বইয়ের সিনেমাপ্রেমীরা। এই ছবি যেমন মারদাঙ্গা হিন্দি সিনেমার কবরে শেষ পেরেক পুঁতেছিল তেমনি নতুন করে ফিরিয়ে এনেছিল প্রেমের গল্পের লাভ স্টোরির যুগ। কিন্তু গত ৩১ বছরে ছবির নায়ক ‘প্রেম’ সালমান যে অনেক পরিণত। সঙ্গে করোনা মহামারি তো আছেই।
ভাগ্যশ্রীর ভয়েস ওভার ব্যাকগ্রাউন্ডে শুনতে শুনতে ৩১ বছর আগে সালমান পর্দায় নায়িকার লিপস্টিকের দাগের ওপর ঠোঁট রেখে দেখিয়েছিলেন, তিনিও ভালোবাসেন। উসনে ভি প্যায়ার কিয়া! কিন্তু এখন তিনি ৫৪। করোনার ভয়ে আশ্রয় নিয়েছেন ফার্ম হাউসে। এখন এসব বালখিল্যতা আসে! দ্বিতীয় উত্তর, এখন এই ছবি মুক্তি পেলে তিনি একই দৃশ্যে একই ভাবে আসতেন। দাগ দেখতেন। তারপর স্যানিটাইজার ছড়িয়ে কাগজের তোয়ালে দিয়ে লিপস্টিকের দাগ মুছে চলে যেতেন। সালমান জানেন, রোগ আপন-পর বোঝে না! ভাইজানের এই সচেতন বার্তা পোস্ট হতেই ভাইরাল।
এর আগেও সালমান ভিডিও বার্তা দিয়ে সচেতন করেছেন অনুরাগীদের। ১৯৭৫-এর কাল্ট ছবি ‘শোলে’-র সংলাপ সামান্য বদলে নিয়েছেন নিজের মতো করে। তারপর সেই সংলাপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মারফত পৌঁছে দিয়েছেন অনুরাগীদের কাছে। রমেশ সিপ্পির ‘শোলে’-র বিখ্যাত সংলাপ ছিল, ‘যো ডর গ্যয়া সমঝো উও মর গ্যয়া?’ তাকেই নিজের মতো করে বলেছেন সালমান খান ‘এই সংলাপ এই দুর্দিনের জন্য নয়। আমরা ভয় পেয়েছি। তাই বেঁচে গেছি!’ লকডাউনে তিন সপ্তাহ ধরে পানভেলে নিজের ফার্ম হাউসে পরিবারের কিছু সদস্যদের নিয়ে রয়েছেন ভাইজান। তার সঙ্গে খামার বাড়িতে আছেন মা সালমা খান, অর্পিতা খান, আয়ুশ শর্মা এবং ভাই সোহেল খানের ছেলে নির্বাণ। বাবা সেলিম খান একা রয়েছেন মুম্বাইয়ের বাড়িতে। টানা তিন সপ্তাহ বাবাকে দেখেননি সালমান। বয়স্ক বাবা কেমন আছেন? একা একা কী করছেন? এই ভেবে ভীষণ চিন্তিত বড় ছেলে। একই সঙ্গে মন খারাপও খুব। সে কথাও তিনি ভিডিও ক্লিপিংসে জানিয়েছেন অনুরাগীদের। ভাইপোর সঙ্গে কথোপকথনে উঠে এসেছে পুরো বিষয়টি।
তারপরেই তিনি বলেছেন, এখন ভয় পাওয়ার সময়। ভয় পেয়ে বাড়িতে থাকার সময়। জমায়েতে যোগ না দেওয়ার সময়। নিজের মতো করে কাটানোর সময়। সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার সময়। এই সময় বীরপুরুষের মতো কেউ সমস্ত নির্দেশ না মানলে ভুগতে হবে তাকে। তার সঙ্গে তার পরিবার, প্রতিবেশী, অঞ্চলের মানুষদের। তাই এখন ভয় পাওয়াই ভালো। যিনি বা যারা ভয় পাবেন, তারাই করোনামুক্ত ভারতের আকাশের নতুন সূর্য দেখতে পাবেন।
ফার্ম হাউসে থেকেই নিজের ফ্যান ক্লাব বিয়িং হিউম্যানের মাধ্যমে বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে দৈনিক মজুরিতে কাজ করা ২৫ হাজার দুস্থ টেকনিশিয়ানের পরিবারের মুখে অন্ন সংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন সালমান খান।
