বাণিজ্যিক উৎপাদনে দেশের প্রথম ও বৃহৎ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র

আপডেট : ১৪ এপ্রিল ২০২০, ০৫:১৩ পিএম

নিদৃষ্ট সময়ের আগেই উৎপাদন শুরু করেছে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন দেশের প্রথম এবং সবচেয়ে বড় পটুয়াখালীর পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। পিডিবির ছাড়পত্র (আইওডি) পেলেই শুরু হবে ৬৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন প্রথম ইউনিটের বাণিজ্যিক উৎপাদন। পরিবেশ বান্ধব সুপার আলট্রা টেকনোলজি সম্পন্ন এ প্লান্ট থেকে পর্যায়ক্রমে জাতীয় গ্রীডে যুক্ত হচ্ছে কয়লা ভিত্তিক ২৬৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।

২০১৪ সালের ৯ জুন চীনের ন্যাশনাল মেশিনারি এক্সপোর্ট অ্যান্ড ইমপোর্ট করপোরেশন এর সাথে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের চুক্তি করে। যৌথ মূলধনীসহ বাংলাদেশ চায়না পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিসিপিসিএল) নামে কোম্পানি গঠন আর দরপত্র আহ্বানের পর ২০১৬ সালের মার্চে পটুয়াখালীর কলাপড়ার ধানখালীর নিশানবাড়িয়ায় চীনের আরেক প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ইঞ্জিনিয়ারিং পাওয়ার কোম্পানী (এনইপিসি) শুরু করে দেশের বৃহত্তম এ তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মান কাজ। 

চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি কেন্দ্রটির ৬৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রথম ইউনিট পরীক্ষামূলকভাবে উৎপাদন শুরু করে। পরীক্ষণের বিভিন্ন ধাপে উত্তীর্ণ শেষে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) কেন্দ্রটির বাণিজ্যিক উৎপাদনের ছাড়পত্র (আইওডি) প্রদানের প্রক্রিয়া চুরান্ত করেছে। দশ হাজার দেশী-বিদেশী শ্রমিকের দিনরাত কঠোর শ্রমের ফসল দেশের প্রথম ও বৃহত্তম তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। 

এমন কথা উল্লেখ করে বিসিপিসিএল’র সহকারী ব্যবস্থাপক শাহমনি জিকো বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে পিছিয়ে গেছে বিদ্যুৎ কেন্দ্রেটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন। সকল প্রতিকূলতার আবসান হলে খুব শীঘ্রই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এটি উদ্বোধন করবেন এমন আশা এই কর্মকর্তাসহ প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের। 

১৩২০ মেঘাওয়াটের ক্ষমতা সম্পন্ন বিদ্যুৎ প্লান্টের ২টি ইউনিটের জন্য প্রতিদিন ১৩ হাজার টন কয়লার প্রয়োজন। দেশের তৃতীয় সমুদ্র বন্দর পায়রার মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়া থেকে এ কয়লা আমদানী করা হচ্ছে। 

বিসিপিসিএল’র প্রকল্প পরিচালক শাহ গোলাম মওলা বলেন, পিজিসিবি থেকে প্রাপ্ত ৪ শ কেভি সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে প্রথম ইউনিটের উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রীডে পরীক্ষামূলকভাবে সরবারহ করা হয়েছে। আরো কিছু পরীক্ষা নীরিক্ষা শেষে প্রথম ইউনিটের ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বানিজ্যিকভাবে জাতীয় গ্রীডে সরবারহ করব। পাশপাশি দ্বিতীয় ইউনিটের কাজও দ্রুত চলমান রয়েছে। আশা করি ২০২২ সালের মধ্যে ইউনিটের সকল কাজ সম্পন্ন হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত