মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাস লকডাউন তুলে নেবার ব্যাপারে নিজের কর্তৃত্বকেই ‘চূড়ান্ত’ বলে দাবি করেছেন।
বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের গভর্নর এবং আইন বিশেষজ্ঞদের তিনি উপেক্ষা করতে পারেন বলেও তিনি দাবি করেন।
এক বাকবিতণ্ডাপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।’
বিবিসি জানায়, হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে তার উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ও হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে বলা আছে আইনশৃঙ্খলা এবং নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব অঙ্গরাজ্যগুলোর। দেশটির পূর্ব ও পশ্চিমের দশটি রাজ্য নিজেদের ভেতর থাকার কঠোর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবার পরিকল্পনা করছে।
বিশ্বে করোনাভাইরাস মহামারির এপিসেন্টার এখন আমেরিকা। সেখানে নিশ্চিতভাবে ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা ৬০ লাখ ৮ হাজার ৪৫৮ এবং মারা গেছে ২৬ হাজারের অধিক।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমেরিকায় ব্যবসা-বাণিজ্য খুলে দিয়ে অর্থনীতিকে আবার সচল করার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করছে তার প্রশাসন। করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে ব্যবসা-বাণিজ্য প্রধানত বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল।’
হোয়াইট হাউসের বর্তমান নির্দেশ অনুযায়ী রেস্তোরাঁয় যাওয়া বন্ধ রাখা, অপরিহার্য কারণ ছাড়া বাইরে না বের হওয়া এবং একসঙ্গে দশজনের বেশি জমায়েত না হবার যে বিধান এখন চালু আছে তার মেয়াদ ৩০শে এপ্রিল শেষ হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেন আমেরিকার প্রথম চার্টারের ‘বিভিন্ন অনুচ্ছেদে’ প্রেসিডেন্টকে এই ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। যদিও কোন অনুচ্ছেদগুলোর কথা তিনি বলছেন তা তিনি স্পষ্ট করেননি।
তিনি আরও বলেন, ‘তারপরেও আমরা রাজ্যগুলোর সঙ্গেই একসঙ্গে কাজ করবো।’
এদিকে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজ্য বা স্থানীয় পর্যায়ে জনস্বাস্থ্য বিষয়ক কোনোরকম নিষেধাজ্ঞা বা নির্দেশ বদলানোর এখতিয়ার প্রেসিডেন্টের নেই।
তবে ট্রাম্পের এমন কর্তৃত্বপূর্ণ আচরণের জবাবে পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের গভর্নর টম উলফ বলেন, ‘আমার রাজ্যে সবকিছু বন্ধ করা হয়েছে যেভাবে আমাদের প্রশাসনিক দায়িত্বে, সেভাবে সবকিছু খোলার প্রাথমিক দায়িত্ব আমাদেরই।’
বিভিন্ন রাজ্যের গভর্নররা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আবার শুরু করার পরিকল্পনা নিয়ে কথাবার্তা বলছেন ট্রাম্প প্রশাসনকে কোনোভাবে জড়িত না করে।
নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, রোড আইল্যান্ড, কানেকটিকাট, ডেলাওয়্যার, ম্যাসাচুসেটস এবং পেনসিলভানিয়ার গভর্নররা এ ব্যাপারে সবদিক বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে বিধিনিষেধ তোলার দিনক্ষণ তারা দেননি।
যে দশটি রাজ্যের গভর্নর এ নিয়ে কথা বলেছেন তার মধ্যে ম্যাসাচুসেটস ছাড়া সবগুলো রাজ্যের গভর্নর ডেমোক্রেটিক পার্টির। চল্লিশটির বেশি রাজ্যের গভর্নর তাদের রাজ্যগুলোতে সবাইকে ঘরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে।
