দাউদকান্দিতে ওয়ার্ড মেম্বার ও ডিলারের বিরুদ্ধে চাল চুরির অভিযোগ

আপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০২০, ০৮:৪১ পিএম

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার সদর উত্তর ইউনিয়নে সরকারী ১০টাকা মূল্যের চাল আত্মসাৎ ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার ও ডিলারের বিরুদ্ধে।

চাল না পাওয়া ব্যক্তিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ করার পর ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছে উপজেলা প্রশাসন। 

বুধবার ইউনিয়নের গোলাপেরচর গ্রামের কার্ডধারী মোর্শেদা বেগম, জাহাঙ্গীর ও সখিনা বেগম জানান, তিন আগে কাদির মেম্বার বাড়িতে কার্ড দিয়ে গেছে। কার্ড পাওয়ার পর দেখি সেখানে অনেকবার চাল ওঠানোর টিপসই। এগুলো আমাদের টিপসই না। আমরা তো একবার পেয়েছি। প্রথম যখন চাল পাই তখন ডিলারের কাছে কার্ড চাইলে বলে মেম্বার নিয়ে গেছে। আর মেম্বারের কাছে চাইলে বলে কার্ড দিয়ে কি করবি, চাল আসলে আমি খবর দেব। 

রহিমা বেগম নামের আরেক নারী বলেন, আমি ৪ বছরে মাত্র ২ বার ১০টাকা দামের চাল পেয়েছি। বাকি চাল ডিলার আমাকে দেয়নি।

জানা গেছে, ‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ-ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ’ এ স্লোগানকে সামনে রেখে গ্রামের হতদরিদ্র লোকজনের মাঝে ১০টাকা মূল্যে ৩০ কেজি চাল বিতরণের ব্যবস্থা করেছে সরকার। এ চাল বিতরণের জন্য স্থানীয় পর্যায়ে ডিলার নিয়োগ দেয়া হয়।

দাউদকান্দি সদর উত্তর ইউনিয়নের ডিলার হিসেবে নিয়োগ পান মাইন উদ্দিন আহম্মেদ। এ ইউনিয়নে ৬৯৮ জন হতদরিদ্র পরিবার এ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। এর মধ্যে ওই ডিলারের আওতার মধ্যে অর্ধশতাধিক কার্ডধারী গত কয়েক বছরে একবারের বেশি চাল পাননি বলে অভিযোগ করেন। 

ডিলার মাইন উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, শুরু থেকেই মেম্বাররা আমার কাছ থেকে কার্ড নিয়ে গেছে। চাল বিতরণের সময় তারা (মেম্বার) লোকজন নিয়ে আসে এবং চাল নিয়ে যায়। কিছু কার্ডে মেম্বররা একজনের নাম কেটে আরেকজনের নাম ছবি লাগিয়েছে। তালিকার সাথে মিল না থাকায় আমি দিতে চাইনি।

কাদির মেম্বার (২নং ওয়ার্ড) অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, চাল আসলে ডিলার আমাদের ডেকে কার্ড বিতরণের জন্য দেয়। আমরা ঘরে ঘরে কার্ড পৌঁছে দিই। এখানে অনেকেই টাকার জন্য চাল আনতে পারে না, কয়েকজনকে আমি নিজে টাকা দিয়েছি চাল আনতে। আমার নামে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনে যে বিচার, তা মাথা পেতে নেব।

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জি. আব্দুস সালাম বলেন, আমার ইউনিয়নের ৬৯৮ পরিবার ১০টাকা দামের চাল ক্রয়ের সুবিধা পেয়ে থাকেন। গোলাপেরচর ও চেঙ্গাকান্দি এলাকার অন্তত ৬০জন সুবিধাভোগী নারী-পুরুষ আমার কাছে চাল না পাওয়ার অভিযোগ করেছে। সাথে সাথে আমি উপজেলা প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম খান বলেন, ভুক্তভোগীদের অভিযোগ হলো মেম্বারের বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রিপোর্ট পেলেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত