মহামারি করোনার সংক্রমণ রোধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মনিয়ন্দ ইউনিয়নের খারকোট গ্রামবাসীর উদ্যোগে স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন এবং স্বেচ্ছাসেবীদের পিপিই, হ্যান্ড গ্লাবসসহ বিভিন্ন সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া গ্রামের প্রবেশ মুখে হাত ধোয়ার একটি বেসিন স্থাপন করা হয়েছে।
জানা গেছে, করোনাভাইরাসের সংক্রমন থেকে খারকোট গ্রামের মানুষকে সুরক্ষিত রাখতে এবং সাধারণ মানুষের মাঝে জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য গ্রামের স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ৩০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে একটি স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করেছে।
এসব স্বেচ্ছাসেবকরা গ্রামের পাড়া মহল্লায়, দোকানে, মসজিদে ব্লিচিং পাউডার মিশ্রিত জিবানুনাশক পানি ছিটাচ্ছে। এর পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে লোকজনকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য সচেতনতামুলক পরামর্শ দিচ্ছে। বাহির থেকে কেউ গ্রামে প্রবেশ করার সময় সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে দেওয়ার কাজটি করছে এসব স্বেচ্ছাসেবীরা। গ্রামে কোন অতিথি আসলে কিংবা কারো দেহে করোনার লক্ষণ দেখা গেলে প্রশাসনকে জানাতে পরামর্শ দিচ্ছে ওই সেচ্ছাসেবক সদলের সদস্যরা।
এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি মেম্বার মো. নূর আলম বলেন, প্রাণঘাতি করোনাভাইরাসের কারণে স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে আমরা খুবই চিন্তিত। গ্রামের মানুষের সুরক্ষার জন্য ছাত্র সমাজ যে কাজ করছে তা খুবই প্রশংসনীয়।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে আখাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রসুল আহমদ নিজামী বলেন, মহামারি করোনাভাইরাসের ভয়ংকর থাবা থেকে রক্ষা পেতে খারকুট গ্রামবাসী স্বেচ্ছাসেবক গঠন, গ্রামে জীবাণুনাশক পানি ছিটানো এবং হাত ধোয়ার বেসিন স্থাপনসহ পিপিইসহ সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
উল্লেখ্য, ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত আখাউড়ায় ৭ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে ৬ জন নারী ও একজন পুরুষ। এর মধ্যে একজন নারী চিকিৎসকও রয়েছেন। করোনা উপসর্গ নিয়ে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।
