মার্চ-এপ্রিল দুই মাস চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা মানছেন না জেলেরা। করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি নিয়েই দলবদ্ধভাবে তারা নদীতে নামছেন জাল নিয়ে। এতে করে জেলেপল্লীগুলো ভাইরাসের ঝুঁকিতে রয়েছে। জাটকা সংরক্ষণের জন্য গত ১ মার্চ থেকে দুই মাসের জন্য চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় সব ধরনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা দেয় সরকার। জেলার মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী পর্যন্ত ৭০ কিলোমিটার এলাকা এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে অনেক জেলেই নদীতে নামছেন জাটকা নিধনের জন্য। তারা কয়েকজন একসঙ্গে নৌকায় করে মাছ শিকারে যাচ্ছেন।
একই সঙ্গে নদীর পাড়ের মাছের আড়তগুলোতে মাছ বিক্রির পাশাপাশি তারা নিজেদের মধ্যে মেতে উঠছেন আড্ডায়। এতে করে সরকারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার পাশাপাশি রক্ষা করা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্ব। ফলে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে এসব জেলে ও জেলা পরিবারের সদস্যদের মধ্যে। করোনাভাইরাসের ব্যাপারে গণমাধ্যমে জানলেও কেউ জেলে পরিবারগুলোতে কোনো সহায়তা নিয়ে আসেনি। অভাবের কারণে করোনা সংক্রমণরোধে কোনো প্রতিরোধব্যবস্থা নিতে পারছে না তারা।
চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন, হরিণা ফেরিঘাট এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জেলে বলেন, নদীতে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকলেও পেটের দায়ে অনেক জেলে নদীতে যায় মাছ ধরতে। অনেক মানুষ একত্র হয়ে জাল দিয়ে মাছ ধরে। যা পাওয়া যায় তা দিয়ে কোনোমতে তাদের সংসার চলে। তারা আরও বলেন, করোনাভাইরাসের ব্যাপারে জেলেপল্লীতে বিভিন্ন ধরনের প্রচার চালানো হলেও কেউ সাহায্য নিয়ে এগিয়ে আসেনি। যেখানে তাদের নুন আনতে পান্তা ফুরায়, সেখানে নিজেদের জীবাণুমুক্ত রাখবেন কীভাবে।
সরকারি চাল সহায়তার বাইরে কেউ এসব জেলেকে সহায়তার হাত বাড়ায়নি। তাই ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়েই জেলেরা নদীতে নামছেন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান বলেন, সরকারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জেলেদের কোনোভাবেই নদীতে নামা ঠিক নয়। একই সঙ্গে মহামারী করোনাভাইরাসের ব্যাপারে প্রশাসন থেকে বিভিন্ন কমিটি গঠন করে কাজ করা হচ্ছে। চাঁদপুর জেলা মৎস্য কার্যালয় থেকে জানা গেছে, গত এক মাসে বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করে চাঁদপুরে অর্ধশতাধিক জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জেলায় ৫০ সহস্রাধিক জেলে রয়েছেন। এর মধ্যে ৩৮ হাজার নিবন্ধিত জেলে চার মাস ৪০ কেজি করে চাল সরকারি সহায়তা পাচ্ছেন।
