বৃহস্পতিবার ভারতের মুম্বাইয়ের মিউনিসিপ্যাল কমিশনার বলেছেন কোভিড ১৯ এর প্রতিষেধক হিসেবে ৫০ হাজার মানুষের মধ্যে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ব্যবহার করা হবে। এর আগে এই লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছিল ১ লাখ।
একদিকে যেমন এই সংখ্যা হ্রাস করা হয়েছে, অন্যদিকে মহামারীর সময়ে এই ওষুধের ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট জাতীয় প্রোটোকল ঘোষণার মাধ্যমে বলা হয়েছে একদম নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে, যেসব স্বাস্থ্যকর্মীরা কোভিড ১৯ রোগীর কাছে এক্সপোজড হয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা হবে।
হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন মুখ দিয়ে খাবার একটি ওষুধ, যা কিছু ধরনের ম্যালেরিয়া এবং রিউম্যাটয়েড আর্থ্রারাইটিসের মত স্বপ্রতিরোধজনিত অসুখের ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ১৯৪০ থেকে এর ব্যবহার চলছে এবং গত ৪০ বছরের গবেষণায় দেখা গিয়েছে এর মধ্যে কিছু অ্যান্টি ভাইরাল উপাদান রয়েছে।
ক্লোরোকুইন ও ক্লোরোকুইন জাত হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন কোভিড ১৯-এর সম্ভাব্য চার দফা চিকিৎসা নিয়ে হু এর নজরদারিতে ট্রায়াল চলছে।
হু বলেছে, হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন এবং ক্লোরোকুইনের মধ্যে একটিরও কার্যকারিতা সম্পর্কে যথেষ্ট পরিমাণ তথ্য নেই, যার ফলে বলা যেতে পারে কোভিড ১৯-এর চিকিৎসা এই ওষুধের মাধ্যমে হতে পারে অথবা করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সাহায্য করতে পারে।
বলা হয়েছে কোভিড ১৯ সংক্রমিত বা সন্দেহজনক কোভিড ১৯ রোগীদের পরিচর্যায় যুক্তদের সংস্পর্শে আসবার পর উপসর্গবিহীন স্বাস্থ্যকর্মীদের এবং ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত কোভিড সংক্রমিতদের পরিবারের লোকজনকে এই ওষুধ দিতে হবে।
১৫ বছরের কম বয়সীদের এই ওষুধ দেওযা হবে না, দেওয়া হবে না গর্ভবতী নারী ও হৃদরোগীদের। ৫৫ বছরের বেশি যাদের বয়স, তাদের উপর এই ওষুধের প্রতিক্রিয়া ভালভাবে নজর করা হবে।
কোভিড ১৯-এর চিকিৎসা বা প্রতিষেধক হিসেবে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের কার্যকারিতা এখনও অপ্রমাণিত, এবং এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন সকলের চিকিৎসার জন্য নয়। এই ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। তার মধ্যে একটা হল এর ফলে হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিক হয়।
এই ওষুধ কেবলমাত্র হাসপাতালে কড়া নজরদারির মধ্যে ব্যবহার করা উচিত। প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে কোভিড ১৯ রোগীদের মধ্যে এই ধরনের ওষুধ প্রয়োগ হৃদযন্ত্রের সমস্যা বাড়তে পারে।
হৃদরোগবিশেষজ্ঞরা এই ওষুধের সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে সতর্কতা জারি করেছেন। তারা বলেছেন কম সংক্রমিত কোভিড ১৯ রোগীদের এই ওষুধ দেবার ফলে মৃত্যু হতে পারে।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
