মানুষের সঙ্গে মানবিক আচরণ করতে হবে: বেনজীর আহমেদ

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০২০, ০৯:৪৯ পিএম

দেশজুড়ে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পুলিশকে জনগণের পাশে থাকতে হবে বলে উল্লেখ করে বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ, বিপিএম (বার) বলেছেন, মানুষের সঙ্গে কোন ধরনের খারাপ আচরণ করা যাবে না, তাদেরকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা যাবে না। মানুষের সঙ্গে মানবিক আচরণ করতে হবে।

তিনি বলেছেন, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে দেশের বিভিন্ন স্থানে লকডাউন কার্যকর রয়েছে। সঠিকভাবে লকডাউন বাস্তবায়ন করতে হবে। অত্যন্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষের চলাচল সীমিত করতে হবে।

শনিবার দুপুরে এক ভিডিও কনফারেন্সে পুলিশের সকল রেঞ্জ, মেট্রোপলিটন ও বিশেষায়িত ইউনিটের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদানকালে বেনজীর আহমেদ কথা বলেন।

আইজিপি বলেন, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য এ সময় খোলা স্থানে অথবা ফুটপাতে বাজার বসাতে হবে। বাজারে একমুখী চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে কমপক্ষে ২০ ফুট দূরত্ব বজায় থাকে। চায়ের দোকানে আড্ডা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

তিনি বলেন, জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে বাজার মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। যাতে কেউ পণ্যের মজুতকারী অথবা মূল্য বৃদ্ধি করতে না পারে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন স্বাভাবিক রাখতে হবে।

আইজিপি বলেন, সরকারি ত্রাণ বিতরণ এবং ওএমএসের চাল বিতরণে যে কোনো অনিয়ম রোধ করতে ভূমিকা রাখবে পুলিশ। এ জন্য গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে হবে; বর্তমানে পুলিশের অনেক সক্ষমতা রয়েছে, এ সক্ষমতা কাজে লাগাতে হবে।

ড. বেনজীর আহমেদ বলেন, ফোর্সের কল্যাণে কাজ করতে হবে। করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালনকালে কোন পুলিশ সদস্য অসুস্থ হলে তার চিকিৎসায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

মাদকের ভয়াবহতার কথা উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, আমরা বাংলাদেশে আর মাদক দেখতে চাই না। আমরা মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর।

আইজিপি বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নতুন নতুন অপরাধ প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ ছাড়া, কোথাও কোথাও চুরি ডাকাতি  বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব বন্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সাইবার অপরাধ, অর্থনৈতিক অপরাধ ইত্যাদি প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ বন্ধ করতে হবে। ভুয়া সংবাদ, গুজব বন্ধ করতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা দুর্নীতিমুক্ত পুলিশ প্রশাসন গড়ে তুলতে চাই। কোন পুলিশ সদস্য অবৈধ আয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলে তাকে অবশ্যই বেরিয়ে আসতে হবে।

টিম স্পিরিটের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আইজিপি বলেন, পুলিশের কাজের মূল ভিত্তি হবে টিম স্পিরিট। এককভাবে নয়, পুলিশ সদস্যদের টিম হিসেবে কাজ করতে হবে। আমরা পুলিশকে প্রযুক্তি নির্ভর, আধুনিক ও স্মার্ট পুলিশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।

বাংলাদেশ পুলিশের ২ লাখ ১২ হাজার পুলিশ সদস্যের প্রত্যেককে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আইজিপি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সকলকে দেশের কল্যাণে এবং রাষ্ট্রের অগ্রগতি ও উন্নয়নে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভিশন ২০২১ ও ভিশন ২০৪১ এর স্বপ্নপূরণে পুলিশকে মানুষের প্রথম ভরসার স্থল হি‌সে‌বে তৈরি করতে চান।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত