নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বকেয়া বেতন ভাতার দাবিতে অন্তিম নিটিং ডাইং এন্ড ফিনিশিং লিমিটেড নামে একটি রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেছেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক প্রায় ১ ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন।
এতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। সোমবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার বরপা এলাকায় অন্তিম নিটিং ডাইং এন্ড ফিনিশিং কারখানার সামনে শ্রমিকরা এ বিক্ষোভ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা জানান, উপজেলার বরপা এলাকায় অন্তিম নিটিং ডাইয়িং এন্ড ফিনিশিং কারখানায় সাড়ে ৭ হাজার শ্রমিক কাজ করেন।
পোশাক কারখানার বেশিরভাগ শ্রমিকের গত ৩ মাসের বেতন আবার কোনো কর্মকর্তার ৫-৭ মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। শ্রমিকরা মালিকপক্ষকে বেতন পরিশোধের কথা বললেও তারা বিভিন্নভাবে টালবাহানা শুরু করেন।
করোনা পরিস্থিতির কারণে গত ২৬ মার্চ দেশের সকল কারখানা বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু অন্তিম নিটিং এন্ড ফিনিশিং লিমিটেড পোশাক কারখানাটি তারপরও চালু রাখা হয়। পরে শ্রমিকদের চাপের মুখে গত ২৯ মার্চ বকেয়া বেতন না পরিশোধ করেই কারখানাটি বন্ধ করা হয়।

গত ১০ ও ১৬ এপ্রিল বেতন দেওয়া কথা থাকলে মালিকপক্ষ বেতন পরিশোধ করেনি। গত ২০ এপ্রিল পুনরায় শ্রমিকদের বেতন পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শ্রমিকরা বেলা ১০টার দিকে কারখানার সামনে অবস্থান নিলে মালিকপক্ষ ৩০ তারিখে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করবে বলে জানায়। শ্রমিকরা কারখানার ভেতরে প্রবেশ করতে চাইলে নিরাপত্তাকর্মীরা মেইনগেট আটকে রাখেন। এ সময় শ্রমিকরা ক্ষিপ্ত হয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেন।
অবরোধের কারণে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে করে নিত্যপ্রয়োজনী ও জরুরি সেবা বহন করা যানবাহনগুলোর চলাচল ব্যাহত হয় ও ভোগান্তিতে পড়তে হয় অনেককে। পরে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ ও কাচঁপুর ইন্ডাসট্রিয়াল ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
শ্রমিকরা আরো জানান, অন্তিম নিটিং ডাইং এন্ড ফিনিশিং মালিকপক্ষ বেশিরভাগ সময়েই শ্রমিকদের বেতন নিয়ে গরিমসি করে। কারখানার সাড়ে ৭ হাজার শ্রমিকের মাঝে বেশিরভাগই নিম্নবিত্ত শ্রেণির। এদের সিংহভাগই এখানে ভাড়া বাড়িতে থেকে গার্মেন্টসে কাজ করেন।
বেতন না পাওয়ায় শ্রমিকরা বাড়ি ভাড়া দিতে পারছেন না। এছাড়া পরিবারপরিজন নিয়ে সংসার চালানোটা দুষ্কর হয়ে পড়েছে। শ্রমিকরা এখানকার ভোটার না হওয়ায় ত্রাণ পাচ্ছেন না। ত্রাণের জন্য জনপ্রতিনিধিদের কাছে গেলে তারা বলে দেন- ভোটার না হলে ত্রাণ পাবে না।
পোশাক শ্রমিক মানসুরা আক্তার বলেন, ধারদেনা কইরা আর কয়দিন চলন যায়। দোকানদাররাও আমাগো বাকি দেওয়া বন্ধ কইরা দিছে। ভাবছিলাম আইজকা বেতন পামু এহন আবার কইতাছে ৩০ তারিখে দিবো, এতদিন কি খাইয়া থাকমু আমরা।
এ ব্যাপারে মালিকপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আগামী ৩০ এপ্রিল বেতন পরিশোধ করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে মালিকপক্ষ।
