কুষ্টিয়ায় এক পুলিশ সদস্যসহ তিন উপজেলায় তিনজনের করোনাভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে। জেলায় প্রথমবারের মতো একদিনেই তিনজন করোনা রোগী শনাক্ত হলো বলে নিশ্চিত করেছেন কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন।
আক্রান্তরা হলেন কুষ্টিয়া শহরের আড়–য়াপাড়া এলাকার এক ব্যাংক কর্মকর্তা (৩০), খোকসা উপজেলার ওসমানপুর এলাকার পুলিশ সদস্য (৩৫) এবং কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের গট্টিয়া গ্রামের এক কৃষক (৬৯)।
বুধবার বিকেলে জেলায় তিনজন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর শনাক্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম।
সিভিল সার্জন জানান, আক্রান্ত ব্যাংক কর্মকর্তা মাদারীপুর জেলায় সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অফিসার পদে কর্মরত আছেন। গত ২৫ মার্চ তিনি মাদারীপুর থেকে কুষ্টিয়ায় নিজ বাড়িতে আসেন।
এদিকে করোনা উপসর্গ সন্দেহে পুলিশ সদস্য মঙ্গলবার রাতে তার মোবাইলে খুদে বার্তার মাধ্যমে করোনাভাইরাস পজেটিভের সংবাদ জানানো হলে তিনি কর্মস্থল ঢাকা রাজারবাগ থেকে পালিয়ে খোকসায় নিজ বাড়িতে চলে আসেন। তিনি ঢাকার এসবিতে (বিশেষ শাখা) কর্মরত।
অপরজন কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের গট্টিয়া গ্রামের স্যালো ইঞ্জিনে তৈরী যন্ত্র দ্বারা গ্রামের বাড়ি বাড়ি ধান মাড়াই এর কাজ করেন।
আক্রান্তদের চিকিৎসার ব্যাপারে সিভিল সার্জন জানান, করোনায় আক্রান্ত শহরের আড়ুয়াপাড়ার বাসিন্দা ব্যাংক কর্মকর্তা ও খোকসা উপজেলার ওসমানপুর গ্রামের পুলিশ সদস্যকে হোম আইসোলেশনে রেখে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে কুমারখালীর আক্কাস আলীর বয়স বিবেচনা এবং তার আগে থেকে এ্যাজমার সমস্যা থাকায় তাকে হাসপাতালের আইসোলেশনে নেয়া হয়েছে।
এ ছাড়া করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের বাড়িসহ আশে পাশের কয়েকটি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। সেই সাথে আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
সিভিল সার্জন আরো জানান, কুষ্টিয়া জেলায় ৩৩৯ জনের করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫৫ জনের নেগেটিভ রিপোর্ট এসেছে। বাকিদের রিপোর্ট এখনো আসেনি।
এদিকে কুষ্টিয়া জেলায় প্রথমবারের মতো করোনা রোগী সনাক্ত হওয়ায় স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা জেলায় আরো করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার আশংকা করছেন।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি রাজধানী ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রায় আড়াই হাজার মানুষ গত দুই সপ্তাহে কুষ্টিয়ায় এসেছেন। এদেরকে বাধ্যতামূলক হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হলেও তারা তা না মেনে লোকালয়ে চলাফেরা করছেন। এতে সংক্রমণ বিস্তারের শংকা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
সিভিল সার্জন জানান, বৃহস্পতিবার থেকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবে করোনাভাইরাস সনাক্তের পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। এরফলে সহজ ও স্বল্প সময়ে আরও বেশী আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা যাবে এবং প্রয়োজনানুযায়ী স্বাস্থ্য বিভাগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
