সাভারে ৮১৫ পোশাকশ্রমিক ছাঁটাই, প্রতিবাদে বিক্ষোভ

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০২০, ০৭:০৫ এএম

করোনা পরিস্থিতিতে রপ্তানি আদেশ বাতিলের কারণ দেখিয়ে সাভার আশুলিয়ার একটি কারখানা লে-অফ ঘোষণা এবং ৮১৫ কর্মীকে ছাঁটাই করেছে। গতকাল শনিবার এ সংক্রান্ত নোটিস কারখানার মূল ফটকে টানিয়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি জানতে পেরে আশুলিয়ার ধনাইদ এলাকার সিগমা ফ্যাশন লিমিটেডের শ্রমিকরা কারখানার সামনে বিক্ষোভ করেন।

কারখানার মহাব্যবস্থাপক স্বাক্ষরিত নোটিসে বলা হয়, বর্তমানে সারা বিশ্বে করোনাভাইরাস সংক্রমিত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির সকল রপ্তানিজাত পণ্যের উৎপাদন এবং আন্তর্জাতিক ক্রয়াদেশ বাতিল হয়ে গেছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে গত ১ এপ্রিল থেকে আগামী ৩১ মে পর্যন্ত করাখানা লে-অফ ঘোষণা করা হয়। এ অবস্থায় কারখানাটি সম্পূর্ণভাবে পরিচালনা করা সম্ভব না হওয়ায় নোটিসের তালিকায় থাকা শ্রমিক-কর্মচারীদের বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী ১৮ এপ্রিল থেকে ছাঁটাই করা হলো। সরকারি ডাক বিভাগ খোলাসাপেক্ষে শ্রমিকদের স্থায়ী ঠিকানায় ছাঁটাইয়ের চিঠি পাঠানো হবে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়াসাপেক্ষে ছাঁটাইকৃতদের আইনানুগ পাওনাদি ট্রাস্ট ব্যাংকের মাধ্যমে প্রত্যেকের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাব নম্বরে আগামী ৭ মের মধ্যে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে নোটিসে উল্লেখ করা হয়।

ছাঁটাইয়ের খবর জানতে পেরে শ্রমিকরা কারখানার সামনে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ বিক্ষোভ করেন। আলোচনা ছাড়াই মালিকপক্ষের লে-অফ ঘোষণায় তারা বিস্ময় প্রকাশ করেন। আন্দোলনকারী শোভা আক্তার, মনোয়ারা বেগম, সামছুন্নাহার, ফাতেমাসহ কয়েকজনের অভিযোগ, হঠাৎ লে-অফ ঘোষণা করায় সহস্রাধিক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। কর্র্তৃপক্ষ বিগত দুই মাসের বেতন-ভাতাও দেয়নি।

দীর্ঘদিন কারখানায় সুইং অপারেটর হিসেবে কাজ করেন রফিকুল ইসলাম। চাকরি হারিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে দেশের অবস্থা ভালো না। করোনা সংক্রমণ শুরুর পর সব বন্ধ হওয়ায় আমরা অনেক কষ্টে দিন পার করছি। এখন ছাঁটাই করায় পরিবার নিয়ে কোথায় যাব, কী করব বুঝতে পারছি না। সাধারণ ছুটির মধ্যে কারখানা বন্ধ করে দেওয়া কোন আইনে আছে? কোনো আলোচনা না করে এভাবে ছাঁটাইয়ের তালিকা টানানো অমানবিক।’ শ্রমিক বিলকিস বেগম ছাঁটাই সব শ্রমিককে অবিলম্বে কারখানায় চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি জানান।

শ্রমিকনেতা খায়রুল মামুন মিন্টু বলেন, ‘করোনা দুর্যোগে শ্রমিকরা চাকরি পাবে কোথায়? এজন্য কষ্ট করে বাড়িতে না গিয়ে চাকরির আশায় শিল্প এলাকায় অবস্থান করছেন তারা। এরই মধ্যে হঠাৎ ছাঁটাই ও কারখানা লে-অফ ঘোষণা শ্রমিকদের জন্য মড়ার উপর খাড়ার ঘাঁ। অবিলম্বে বেতন-ভাতা পরিশোধসহ সবাইকে পুনর্বহালের দাবি জানাচ্ছি।’

এ বিষয়ে কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা যে পদক্ষেপ নিয়েছি, সবই নোটিসে লেখা রয়েছে। এর বাইরে আমার কোনো বক্তব্য নেই।’

এদিকে গতকাল আশুলিয়ার কাঠগড় এলাকার সেঞ্চুরি ফ্যাশনের ৫ শতাধিক শ্রমিক তাদের দুই মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে কারখানার সামনে বিক্ষোভ করেন। পরে তারা সিঅ্যান্ডবি আশুলিয়া সড়ক অবরোধ করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত