করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে লকডাউন ও সাধারণ ছুটিতে বিপাকে পড়েছেন পাবনার সবজি চাষিরা
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সবজি উৎপাদনকারী অঞ্চল হিসেবে পরিচিত জেলার আটঘরিয়া ও ঈশ্বরদী উপজেলা থেকে সব ঋতুতেই ঢাকাসহ সারাদেশে সরবরাহ হয় নানা ধরণের মৌসুমী সবজি।
করোনার নেতিবাচক প্রভাবে পরিবহন সংকট ও চাহিদা কমে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে ক্রেতার সংকট।
স্থানীয় হাটবাজারেও ক্রেতা না থাকায় মিলছে না ন্যায্যমূল্য। ফলে ক্ষেতেই নষ্ট হচ্ছে পচনশীল এসব সবজি। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন চাষিরা।
এমন সংকটময় মুহূর্তে অসহায় কৃষকদের সহায়তায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন পাবনার আটঘরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান তানভীর ইসলাম।
প্রান্তিক চাষিদের ক্ষেত থেকে সবজি কিনে তা বিনামূল্যে বিতরণ করছেন কর্মহীন অসহায় মানুষের মাঝে। এতে কৃষক উৎপাদিত সবজির ন্যায্যমূল্য পাওয়ার পাশাপাশি হাটবাজারে কমছে লোক সমাগম। নিশ্চিত করা যাচ্ছে সামাজিক দূরত্ব।
উপজেলা চেয়ারম্যানের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে কৃষি বিভাগও।
আটঘরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান তানভীর জানান, করোনা মহামারীতে সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর সরকারের নির্দেশে উপজেলা পরিষদ ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করে। ত্রাণের প্যাকেটে কেবল চাল, ডাল, তেল ও আলু দেয়ায় অন্যান্য প্রয়োজনীয় শাক-সবজি, কিনতে স্থানীয়রা হাটবাজারগুলোতে ভিড় করায় কোনভাবেই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছিল না। কর্মহীন মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে শাক সবজি ও পেঁয়াজ মরিচ পৌঁছে দিলে হয়তো তাদের ঘরে রাখা সম্ভব হবে এমন ধারণা থেকেই কাঁচা তরিতরকারি কেনার উদ্যোগ নেয়া।
এ সময় চাষিদের তাদের দুরবস্থার কথা জানতে পেরে সেদিন থেকেই নিয়মিত চলছে এ কার্যক্রম। এর জন্য আলাদা কোনো বরাদ্দ নেই, ব্যক্তিগত তহবিল থেকেই এই কার্যক্রম চলছে বলেও জানান তিনি।
সরেজমিনে এই কার্যক্রম দেখতে রবিবার সকালে আটঘরিয়া উপজেলা পরিষদে গিয়ে দেখা যায়, কৃষকের ক্ষেত থেকে সবজি কিনে ট্রাকবোঝাই করে আনা হয়েছে উপজেলা পরিষদে। সেখান থেকে আলাদা প্যাকেট করে আবারও ট্রাকযোগে নেয়া হচ্ছে প্রত্যন্ত এলাকায়। সেখান থেকে ভ্যানে তুলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিজ হাতে বিতরণ করছেন উপজেলা চেয়ারম্যান।
আটঘরিয়া উপজেলার পারখিদিরপুর গ্রামের প্রান্তিক চাষি ফারুক মন্ডল বলেন, এনজিও থেন ঋণ লিয়ে দুই বিঘা ভুঁই ঢেঁড়স ও এক বিঘা টমেটো আবাদ করিছিলাম। করোনায় গাড়ি বন্ধ হলি ঢাকার পার্টি আসা বন্ধ করি দেয়। গাড়ি ঘোড়া নেই তাই বাজারেও লেওয়া যাচ্ছিলে না। ক্ষেতের সবজি পচতিছিলে। গত কয়দিনে চেয়ারম্যান আমার সব সবজি কিনে লেছে।
চাঁদভা গ্রামের কৃষক আসাদুল্লাহ বলেন, চেয়ারম্যান সাহেব সবজি কেনার উদ্যোগ না নিলে এ এলাকার চাষিদের পথে বসতে হত। তার উদ্যোগে চাষিরা অন্তত পুঁজিটুকু ফিরে পেয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পাবনার উপপরিচালক আজাহার আলী জানান, প্রতিবছর আটঘরিয়া ও ঈশ^রদী উপজেলায় উৎপাদন হয় প্রায় দেড়শ কোটি টাকার সবজি। যা প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০টি ট্রাকে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ হয়। করোনাভাইরাসের কারণে চাহিদা কমে তা নেমে এসেছে প্রায় শূন্যের কোঠায়। ফলে চাষিদের প্রচুর লোকসান হচ্ছে।
কৃষি বিভাগ থেকে তাদের প্রণোদনা দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
তবে, কৃষি বিভাগের পাশাপাশি আটঘরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যানের অনুসরণে জনপ্রতিনিধিরা চাষিদের উৎপাদিত সবজি বিপণনে এগিয়ে এলে, লোকসানের পরিমাণ অনেকটাই কমে আসবে।
