দেশে করোনা ভাইরাসের ‘হটস্পট’ নারায়ণগঞ্জে প্রতিদিনই ৪০ থেকে ৭০ জন মানুষের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়ে আসছিল। এর মধ্যে রোববার একজনের দেহেও এই ভাইরাসের উপস্থিতি ছিল না! বিষয়টি আশার কথা হলেও মোটেও তা নয়; বরং হতাশাব্যঞ্জক চিত্র এটি।
জেলা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নিজেদের ব্যবস্থাপনায় জেলা থেকে ২২৪ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকার আইইডিসিআরে পাঠিয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এর একটি পরীক্ষার রিপোর্টও আসেনি স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে।
শুধু তাই নয়, প্রায় পাঁচ শতাধিক রিপোর্টের ফলাফল আটকে আছে ঢাকায়। এসব পরীক্ষার ফলাফলে কী পরিমাণ মানুষের দেহে মরণঘাতী ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে তা জানে না স্বাস্থ্য বিভাগ, জানে না নমুনা দেওয়া মানুষগুলোও। ফলে, এই ৫ শতাধিক ব্যক্তির মধ্যে যদি ৩০ শতাংশের দেহেও ভাইরাসটির উপস্থিতি থাকে, তাহলে এখানে সংক্রমণ কোন পর্যায়ে পৌঁছাবে, তাই ভাবাচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে শুরু করে সব মহলকে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, যারা নমুনা দিয়েছে তাদের মধ্যে কারা পজিটিভ আর কারা নেগেটিভ তা নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। ফলে, পজিটিভ হলে যে সতর্কতা অবলম্ব করা যেত তা এখন যাচ্ছে না। এতে করে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে।
এদিকে জেলা করোনাভাইরাস বিষয়ক ফোকাল পার্সন ও সদর উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, গত ২১ থেকে ২৪ এপ্রিলের করোনা টেস্টের কোন রিপোর্ট আইইসিডিআর থেকে পাননি। ৫ শতাধিক নমুনা রিপোর্ট না পাওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণও কেউ বলছে না। রিপোর্ট আটকে থাকায় অনেক বিপাকে আছি। প্রতি মুহূর্তে মানুষ ফোন করে রিপোর্টের খবর জানতে চাচ্ছে। রিপোর্ট না পেয়ে লোকজন হতাশ হয়ে আমাদের নিয়ে উল্টাপাল্টা মন্তব্য করছে।
অন্যদিকে সচেতন মহল বলছেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কার্যক্ষমতা সীমিত। এটা তাদের ব্যর্থতা। আর ব্যর্থতা ঢাকতেই ঠিক মত রিপোর্ট দিচ্ছে না। এতে করে তারা নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে গিয়ে সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। একে তো এই জেলা করোনাভাইরাসের ‘হটস্পট’ তার উপর নমুনা পরীক্ষার ফলাফলও আসছে না। এর থেকে বড় হতাশাজনক আর কিছু হতে পারে না।
উল্লেখ্য যে, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য মতে জেলাজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৬২৫ জন এবং মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৩৯। এর সাথে নতুন করে দুইজনের মৃত্যু যোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে ৪১ জনে।
এরমধ্যে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যে আড়াইহাজার উপজেলায় আক্রান্ত ১২ জন, সুস্থ ১। বন্দর উপজেলায় আক্রান্ত ৯ জন, মৃত্যু ১। রূপগঞ্জ আক্রান্ত ৯ জন, মৃত্যু ও সুস্থ ১। সদর উপজেলায় আক্রান্ত ১৩৩ জন, মৃত্যু ৯ এবং সুস্থ ৭। সোনারগাঁ উপজেলায় আক্রান্ত ১১ জন, ২ টি। নারায়ণগঞ্জ সিটি এলাকায় আক্রান্ত আক্রান্ত ৪২৭, মৃত্যু ২৫।
