‘প্রার্থনার ফলে ঈদের আগেই করোনামুক্ত হবে বিশ্ব’

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০২০, ১১:১০ পিএম

‘করোনা নামে ভয়াবহ এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী লড়াই করছেন ভারতের সমস্ত নাগরিক। প্রত্যেকেই সৈনিকের মতো যুদ্ধ করছেন। তাদের এই লড়াইকে আমি মাথা ঝুঁকিয়ে প্রণাম করছি।’ রবিবার সকাল ১১ টায় ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভারতবাসীর ভূয়সী প্রশংসা করে এই মন্তব্য করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে গত ২৫ মার্চ থেকে ভারতজুড়ে লকডাউন জারি হয়েছে। গত ১৪ এপ্রিল তা উঠে যাওয়ার কথা থাকলেও সংক্রমণ বৃদ্ধির হার দেখে আবার সময়সীমা বৃদ্ধি করে দেশটির সরকার। তারপর থেকে কেটে গিয়েছে ১২ দিন। শনিবার দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রনালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ভারতে আক্রান্তের হার বৃদ্ধি মাত্র ৬ শতাংশ। যদিও রবিবার সকালেই আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২৬ হাজার। মৃত্যু হয়েছে ৮২৪ জনের। তবে সুস্থও হয়েছেন ৫৮০৪ জন। এই অবস্থার মধ্যে রবিবার সকালে ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশবাসীর সামনে নিজের বক্তব্য পেশ করেন মোদি।

ভারতের পুরোনো ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রসঙ্গ উত্থাপন করে, ভয়াবহ এই মহামারির সময়ও দেশের প্রতিটি নাগরিক ইতিবাচক মানসিকতা বজায় রেখেছেন বলে উল্লেখ করেন মোদি। করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক ও লকডাউনের মধ্যেও প্রত্যেককে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী যেভাবে অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে সবাই দাঁড়িয়েছেন। তার ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলির পাশাপাশি বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও ব্যক্তির অক্লান্ত পরিশ্রম এবং নিঃস্বার্থ সেবায় ভারতের অবস্থা অন্যদের থেকে ভালো রয়েছে বলে জানান। বলেন, ‘পুরো দেশ এখন একটি দল হিসেবে করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করছে। কেউ নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী বাড়িভাড়ার টাকা মওকুফ করছেন তো কেউ বাড়ির পরিচারিকা কাজে না এলে তাকে মাইনে দিচ্ছেন। চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অক্লান্ত পরিষেবা দেখে গোটা দেশ তাদের সম্মানে মোমবাতি জ্বালাচ্ছেন, ঘণ্টা বাজাচ্ছেন। পরিচ্ছন্ন কর্মীদের উপর পুষ্পবৃষ্টি হচ্ছে। আসলে করোনা যেমন আমাদের আতঙ্কিত করেছে তেমনি এর ফলে অনেক ভালো পরিবর্তন হয়েছে। প্রত্যেকেই সামর্থ্য অনুযায়ী অন্যের পাশে দাঁড়িয়েছেন। কেউ মাস্ক তৈরি করে অন্যদের মধ্যে বিলি করেছেন তো অনেকেই ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে খাবার তুলে দিয়েছেন। সরকারের তরফেও দুস্থ মহিলাদের বিনা মূল্যে তিন মাস রান্নার গ্যাস, কৃষক ও জনধন যোজনার অ্যাকাউন্ট থাকা মহিলাদের টাকা দিয়েছে। গরিব কল্যাণের টাকা সোজাসুজি অ্যাকাউন্টে পৌঁছাচ্ছে। বিভিন্ন ভাবে দেশবাসীর পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি ভারত বিশ্বের অন্যদেশগুলিকে ওষুধ ও অন্য সামগ্রী দিয়ে সাহায্য করেছে। এর ফলে বিভিন্ন দেশের মানুষ আজ সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ভারতে ধন্যবাদ জানাচ্ছে, ভারতবাসীর প্রশংসা করছে। আসলে করোনা সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিটাই পুরো বদলে দিয়েছে। আর বিশ্বে মানবতার নজির রেখেছে ভারত।’

অক্ষয় তৃতীয়ার পূণ্যলগ্নে এই পবিত্র তিথির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে দেশ ও পুরো পৃথিবীকে অক্ষয় রাখার আহ্বান জানান। আয়ুর্বেদ ও প্রাণায়ামের মতো প্রাচীন শিক্ষার জন্য আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এই যুদ্ধে আমাদের জয়ী করবে বলেও উল্লেখ করেন। তবে করোনা পরবর্তী পরিস্থিতিতে যেখানে সেখানে থুতু ফেলার মতো বাজে অভ্যাস আমাদের ত্যাগ করতে হবে বলেও পরামর্শ দেন। সবাইকে মাস্ক পড়ারও পরামর্শ দেন। চিকিৎসা ও অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত থাকা মানুষদের হেনস্তা করলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন।

তিনি আরও বলেন, ‘গত বছর রমজান পালন করার সময় কেউ ভাবতেই পারেননি যে এবার এই রকম কোনো পরিস্থিতি তৈরি হবে। এত সমস্যার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। আসুন সবাই মিলে প্রার্থনা করি যাতে ঈদের আগেই গোটা পৃথিবী করোনার কবল থেকে মুক্ত হয়।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত