লকডাউনে প্রতিদিন ক্ষতি ৩ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২০, ১০:১৯ এএম

করোনাভাইরাস সংক্রমণের লাগাম টানতে সাধারণ ছুটির নামে ২৬ মার্চ থেকে বাংলাদেশে অঘোষিত লকডাউন চলছে। পঞ্চম দফা ছুটি বাড়ানোর পর তা শেষ হতে পারে ৫ মে। এই সময়ে স্থবির হয়ে আছে দেশের অর্থনীতি।

বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে অর্থনীতিবিদের বরাতে জানানো হয়, লকডাউনের কারণে প্রতিদিন ৩ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা ক্ষতি হতে পারে।

এ বিষয়ে গবেষণা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ।

তিনি বলেন, ২০১৮-১৯ সালের জিডিপি-কে ভিত্তি হিসেবে ধরে এই গবেষণা করা হয়েছে। এ গবেষণায় দেখেছেন, লকডাউনের কারণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ থাকলে প্রতিদিন ৩ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা ক্ষতি হয়।

আরও বলেন, একটা দেশের অর্থনীতির তিনটি বড় খাত রয়েছে। কৃষি, শিল্প ও সেবা খাত।

করোনাভাইরাসের কারণে কৃষি খাতে কোন ধরণের উৎপাদন ব্যাহত হয়নি। অর্থাৎ, ফসল ক্ষতি হয়নি, মাছেরও ক্ষতি হয়নি বা কোন ধরণের গবাদি পশুও মারা যায়নি। যেটি হয়েছে সেটি হচ্ছে পণ্যের দাম পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ হাট-বাজারে ক্রেতাদের সমাগম কম। এই গবেষণায় দেখানো হয়েছে যে দামের কতটা পড়তি হয়েছে।

তাদের মতে, কৃষিতে প্রতিদিন ক্ষতি হচ্ছে প্রায় ২০০ কোটি টাকার মতো।

তবে ড. হামিদ জানান, তাদের এই গবেষণাটি আরও ১০ থেকে ১৫ দিন আগে করা হয়েছে। দিন বাড়ার সঙ্গে ক্ষতির এই পরিমাণ আরও বাড়বে।

শিল্প খাতের ক্ষেত্রে শুধু ওষুধ আর খাদ্য পণ্য ছাড়া আর তেমন কোন অংশ খোলা নেই। সেখানেও ক্ষতির পরিমাণ কম নয়। সেটা প্রতিদিন প্রায় এক হাজার একশ ৩১ কোটি টাকার মতো।

সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে সেবা খাতে। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবহন খাত। সব ধরনের সড়ক, নৌ, বিমান ও রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

তবে বেকারত্বের বিষয়ে এখনই কোন ধরণের মন্তব্য করা যাবে না বলে জানান ড. হামিদ। যেহেতু মানুষ ছুটিতে রয়েছে তাই ছুটি শেষ হওয়ার আগে বলা যাবে না যে কারা আসলে চাকরি হারাচ্ছেন বা বেকার হয়ে পড়ছেন। এটার জন্য লকডাউন শেষ হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

এ দিকে করোনাজনিত এই পরিস্থিতির কারণে রেমিটেন্সেও ধাক্কা পড়েছে। ড. হামিদ বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে পুরো বিশ্বই যেহেতু কার্যত অচল হয়ে পড়েছে তাই যত দিন পর্যন্ত না পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে তত দিন পর্যন্ত প্রবাসীদের আয় স্বাভাবিক হবে না।

তিনি বলেন, “রেমিটেন্সের ক্ষেত্রে আমরা একটা বড় ধাক্কা খেতে যাচ্ছি।”

কী পরিমাণ জনশক্তি বিদেশে যাচ্ছে এবং কী পরিমাণ জনশক্তি ফিরে আসছে তার ওপর নির্ভর করে রেমিটেন্স। এই দুই হারের মধ্যে যদি প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক হয়, তাহলে রেমিটেন্স আয় ভালো হয়। আর যদি যাওয়ার তুলনায় ফিরে আসার হার বেশি হয় তাহলে রেমিটেন্স আয় কমে যায়।

রেমিটেন্স কমে যাওয়ার এই ধাক্কা কত বড় হবে তা নির্ভর করবে যেসব দেশে বাংলাদেশি জনশক্তি রয়েছে সেসব দেশে অর্থনীতি কত দ্রুত স্বাভাবিক হয় তার উপর। সেই সাথে প্রতিষেধক কত দ্রুত আবিষ্কার হচ্ছে সে বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত