দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে নদীতে নামবে চাঁদপুরের জেলেরা

আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০২০, ০৮:২৯ পিএম

৩০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার রাত ১২টায় শেষ হচ্ছে সরকারের ঘোষিত দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা। দীর্ঘদিনের বিরতির পরে আবারও অনুমতি পেয়ে নদীতে মাছ ধরতে মুখিয়ে রয়েছে জেলেরা। এর আগে জাটকা সংরক্ষণ কার্যক্রমের আওতায় গত ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত নদীতে সকল প্রকার মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা দেয় সরকার।

জাতীয় মাছ ইলিশ রক্ষায় চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার ষাটনল থেকে লক্ষ্মীপুরের চর আলেকজান্ডার পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ইলিশের পোনা জাটকার অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়।

নদীতে মাছ ধরার প্রস্তুতি নিতে জেলেরা তাদের নৌকা মেরামতের পাশাপাশি পুরনো জাল সেলাই করেছে নিষেধাজ্ঞার সময়টাতে। আর কয়েক ঘন্টা পরেই জেলেরা নেমে পড়বে রূপালী ইলিশের সন্ধানে। আর তাই ইলিশ শিকারের জন্য মতলবের ষাটনল থেকে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী পর্যন্ত চাঁদপুরের ৭০ কিলোমিটার এলাকার অর্ধলক্ষাধিক জেলে তাদের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

মতলব উত্তর, হাইমচর ও চাঁদপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন জেলেরা বলেন, নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় আমরা ইলিশ ধরার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। মাছ ধরার নৌকা মেরামতসহ ব্যবহৃত জালের ছেড়া সেলাই করে সকল কিছু তৈরি করেছি। আজকে রাত ১২টার পর থেকেই আমরা নদীতে নেমে যাব। এখন একটাই আশা, নদীতে ইলিশ মেরে সংসারের অভাব ঘুচাবো, যদি নদীতে পর্যাপ্ত ইলিশ পাওয়া যায়।

জাটকা নিধন প্রতিরোধ কর্মসূচির আওতায় চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীর ৭০ কিলোমিটার এলাকায় এই দুই মাস সকল ধরণের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ছিল। এই সময়ে মাছ ধরা, পরিবহন, বিক্রি ও মজুদ ছিল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে নদীতে পর্যান্ত অভিযান না হওয়ায় নির্বিচারে জাটকা নিধন করেছে অনেক অসাধু জেলে। যদিও পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে জেলেও জাটকা জব্দ করেছে। এ বছর জেলেদের নির্বিচারে জাটকা নিধনরোধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় আগামীতে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা নিয়ে শঙ্কিত প্রকৃত জেলে ও ব্যবসায়ীরা।

অসাধু জেলেদের জাটকা নিধনের কথা শিকার করলেও আগামীতে ইলিশের উৎপাদন ঠিক থাকবে বলে আশাবাদী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আসাদুল বাকী। তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসের এই মহামারিতে স্বল্প জনবল নিয়েও প্রসাশন জাটকা রক্ষায় নিরলস কাজ করেছে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমন ঝুঁকি উপেক্ষা করে কিছু দুস্কৃতিকারী জেলে জাটকা শিকার করেছে। এবছর মা ইলিশের অভিযান ভালো হওয়ায় প্রচুর পরিমানে ডিম ছাড়ার সুযোগ পেয়েছে ইলিশ। তাই নদী ভর্তি জাটকা পোনায়। তাই জেলেরা কিছু জাটকা নিধন করলেও ইলিশের উৎপাদন গতবারের চেয়ে আরো বেশি হবে এ বছর।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, গত দুই মাসে পদ্মা-মেঘনা নদীতে অভিযান চালিয়ে প্রায় ২শ’৮৮ লাখ মিটার কারেন্ট ও ১৫ মেট্টিক টন জাটকা জব্দ করেছে জেলা জাটকা সংরক্ষণ টাস্কফোর্সের সদস্যরা।

এ সময় শতাধিক জেলেকে জাটকা ধরার অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড ও অর্থদন্ড দন্ডিত করা হয়েছে। তাছাড়া জেলার অর্ধলক্ষাধিক জেলেদের মধ্যে প্রায় ৩৮ হাজার জেলেকে এই নিষিদ্ধ সময়ে ৪০ কেজি করে ৪ মাস চাল দেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত