ঈদ শপিংয়ের টাকায় ত্রাণ কিনে প্রতিবেশীদের দরজায় বন্ধুরা!

আপডেট : ০৩ মে ২০২০, ১২:৩৭ পিএম

কারও ইচ্ছে ছিল কিনবেন পাঞ্জাবি। কেউ জুতা। কেউ আবার ভেবেছিলেন, একটা স্মার্ট ফোন কিনবেন। কিন্তু করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে রমজান মাস শুরুর আগেই শুরু হয়ে যায় ‘লকডাউন’। বদলে যায় সিদ্ধান্তও।

ঈদ শপিংয়ের জন্য জমিয়ে রাখা টাকা দিয়ে অসহায় পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন কয়েক বন্ধু। যেই ভাবা সেই কাজ।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়ার ইন্দাসের জিনকড়া গ্রামের প্রান্তিক কৃষক পরিবারের যুবক শেখ মিলন তাদের একজন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের পাড়াপড়শিই যদি কষ্টে থাকেন, তাহলে কিসের খুশি? কিসের আনন্দ?’

মিলন দেন পাঞ্জাবির জন্য তুলে রাখা হাজার টাকা। ইতোমধ্যেই দুই দফায় বন্ধুরা মিলে বাড়ি-বাড়ি ত্রাণ পৌঁছে দিয়ে এসেছেন।

আনন্দবাজার জানায়, ইন্দাসের জিনকড়া-লাগোয়া শ্রীরামপুর, ভাসাপুর, ধাড়াপাড়ার মতো এলাকাগুলোতে অনেক বাসিন্দার দিন যায় দিনমজুরি করে। ‘লকডাউন’-এ কাজ না পেয়ে ঘোরতর সমস্যায় পড়েছেন তারা।

জিনকড়ার শেখ হাসান কলকাতা মেডিকেল কলেজে ডাক্তারি পড়েন। হাজার তিনেক টাকা জমিয়েছিলেন তিনি। ইচ্ছা ছিল বাড়ি থেকে আরও কিছু টাকা নিয়ে একটা ফোন কিনবেন।

তিনি বলেন, ‘পরিচিত মানুষজন অভাবে থাকবেন আর আমি বিলাসিতা করব, তা কি হয়!’

উৎসবে ভালো জুতো কিনবেন বলে পাঁচশ’ টাকা রেখেছিলেন শেখ সুরজ। সেই টাকাও দিয়েছেন ত্রাণে। এভাবে আট হাজার টাকার তহবিল নিয়ে কাজ শুরু হয়েছিল।

উদ্যোক্তাদের অন্যতম শেখ নাসিরুদ্দিন মণ্ডল জানান, চাল, আলু, ডাল, সয়াবিন, পেঁয়াজ, চিঁড়ে, খেজুর, সাবান প্যাকেটে ভরে বাড়িতে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছেন তারা। প্রথম দফায় ত্রাণ দেওয়া হয়েছে ৬০টি পরিবারকে। দ্বিতীয় দফায় ৮০টি।

এলাকার শিক্ষক শেখ মনিরুদ্দিন বলেন, ‘ছেলেরা দারুণ কাজ করছে। জানতে পেরে অনেক মানুষ ওদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।’

জিনকড়ার স্বাস্থ্যকর্মী মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, ‘ওরাই প্রকৃত ধর্ম মানছে। রমজান মাসের আগে থেকেই ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে।’

এলাকার বাসিন্দা মালতি ধাড়া, গীতা ধাড়ারা বলেন, ‘দুঃসময়ে খাবার জোগাচ্ছে ছেলেগুলো। কত যত্ন করে দিয়ে যায়। ওদের ভালো হোক।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত