নভেল করোনাভাইরাস প্রতিরোধে লড়তে গিয়ে নিজেই আক্রান্ত হয়েছিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। সুস্থ হয়ে প্রায় এক মাস পর ফিরে আসেন ডাউনিং স্ট্রিটে। এর দুই দিন পরই তিনি বাবা হলেন। পুত্র সন্তানের জন্ম দেন জনসনের বান্ধবী ও বাগদত্তা ক্যারি সাইমন্ডস।
সুস্থ হয়ে বারবার স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। চিকিৎসক-নার্সদের সহায়তা ছাড়া বেঁচে ফিরতে পারতেন না। এই জন্য তাদের ধন্যবাদ দেন অফিসে ফিরেও। এবার হাসপাতালে তাকে সেবা দেয়া এক চিকিৎসকের নামে সদ্যজাত ছেলের নাম রাখলেন তিনি। সেই চিকিৎসকের প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান জানাতে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত গড়লেন জনসন।
এবিসি নিউজ জানায়, জনসন ও সাইমন্ডস তাদের ছেলের নাম রাখেন উইলফ্রেড লরি নিকোলাস জনসন। চিকিৎসক নিক হার্ট এবং নিক প্রাইসের নামে নিকোলাস নামটি দিয়েছেন তিনি।
শনিবার ইনস্টাগ্রামে সদ্যজাত ছেলের ছবি পোস্ট করেন ক্যারি সাইমন্ডস। ছবির ক্যাপশনে তিনি জানান, জনসনের দাদা উইলফ্রেড এবং আমার দাদা লরির নামে প্রথম দুই নাম রাখা হয়েছে। নিকোলাস নামটি গত মাসে বরিসকে যে দুই চিকিৎসক নিজের দায়িত্বে সুস্থ করে তুলেছিলেন তাদের নাম থেকে অনুপ্রাণিত।
ভালোভাবে বাবা হলেও গত কয়েক সপ্তাহ দুঃসহ অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছে জনসন এবং বাগদত্তাকে। দুজনেই নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন।
প্রথমে এই রোগে পড়েন জনসন, সেটি গত ২৭ মার্চ। এর ১০ দিন পর জ্বর, কাশিসহ উপসর্গগুলো না কমায় তাকে সেন্ট্রাল লন্ডনের সেন্ট টমাস হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখান থেকে নিতে হয় আইসিইউতে। কয়েক দিনের লড়াই শেষে প্রাণ নিয়ে বাড়ি ফিরতে সক্ষম হন। এর ভেতর তার বাগদত্তার আক্রান্ত হওয়ার খবর আসে। তার অবশ্য জনসনের মতো অতটা খারাপ অবস্থা হয়নি।
৩১ বছর বয়সী সাইমন্ডস দীর্ঘদিন ধরে জনসনের রাজনৈতিক সতীর্থ। ২০১২ সালে তাকে লন্ডনের মেয়র হিসেবে জিতিয়ে আনার প্রচারণায় নেতৃত্ব দেন। মার্চের শুরুতে তিনি সাইমন্ডসের সঙ্গে আংটি বদল করেন। কবে বিয়ে করবেন সে বিষয়ে এখনো কিছু জানাননি।
৫৫ বছর বয়সী জনসনের প্রথম স্ত্রীর ঘরে চার সন্তান আছে। ব্রিটেনে প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় এর আগে সর্বশেষ সন্তানের মুখ দেখেন ডেভিড ক্যামেরন, ২০১০ সালে।
