নিজের ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে সমাজসেবামূলক সংস্থা ‘বিদ্যানন্দ’ চক্ষুশূলে পরিণত হওয়া থেকে ঠেকাতে এর প্রধানের দায়িত্ব ছেড়ে দিলেন প্রতিষ্ঠাতা কিশোর কুমার দাশ। তবে সংস্থাটির কার্যক্রমে থাকবেন তিনি।
কিশোর কুমার দাশের বিদ্যানন্দের চেয়ারম্যানের পদ ছাড়ার বিষয়টি দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেছেন সংস্থাটির স্বেচ্ছাসেবক ও ঢাকা বিভাগের সমন্বয়ক সালমান ইয়াসিন খান।
“বিদ্যানন্দে কিশোর কুমার দাশের বিকল্প এখন পর্যন্ত নেই। তিনি চেয়ারম্যানের পদ ছাড়লেও এখন সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাবেন।”
পেরু প্রবাসী কিশোর কুমারের উদ্যোগে ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিভিন্ন বিপর্যয়ে সামাজিক কার্যক্রমের জন্য দেশ জুড়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে ‘বিদ্যানন্দ’।
‘এক টাকায় আহার’ উদ্যোগ দিয়ে প্রথম সবার আলোচনায় আসে সংস্থাটি। প্রশংসিত হচ্ছে চলমান করোনাভাইরাস সংকটে তাদের ত্রাণ বিতরণ ও অন্যান্য কার্যক্রমও।
সালমান ইয়াসিন বলেন, “অনেক দিন ধরে কিছু ধর্মীয় উগ্রবাদী বিদ্যানন্দের কার্যক্রমের সমালোচনা করে আসছেন এই বলে যে, সংস্থাটির প্রধান ইসকনের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করছেন। রজমান মাসেই এসব সমালোচনা বেশি হয়। মূলত সাম্প্রদায়িক এসব মন্তব্য থেকে ‘বিদ্যানন্দ’কে দূরে রাখতেই চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।”
“অথচ আমাদের সংস্থার ৯০ ভাগই মুসলমান। মাত্র ১০ শতাংশের মতো সদস্য অন্য ধর্মের। হিন্দু মাত্র তিন-চার জন।”
সালমান ইয়াসিন জানান, চেয়ারম্যানের পদ ছাড়া নিয়ে কিশোর কুমার দাশের চিঠি এরই মধ্যে পৌঁছালেও কভিড-১৯ মহামারি পর তা কার্যকরী হবে।
নতুন চেয়ারম্যান কাকে করা হতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে সালমান ইয়াসিন বলেন, “আমাদের কারোর পদের প্রতি লোভ নেই। কেউ আগ্রহী না হলে এই পদ শূন্য থাকবে।”
তিনি আরও জানান, কিশোর কুমার দাশ প্রতি বছর রমজান মাসে দেশে আসেন। কিন্তু এবার করোনাভাইরাস সংকটের কারণে আসতে পারেননি।
