বেনাপোল বন্দর শ্রমিকদের পারিশ্রমিকের ১ কোটি ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় ফুঁসে উঠেছে বন্দর শ্রমিকরা। বন্দরের পণ্য লোড-আনলোড বন্ধ রেখে উত্তেজিত শ্রমিকরা সড়ক দখল করে রাখেন তিন ঘণ্টা।
মঙ্গলবার বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা তাদের পাওনা ১ কোটি ২০ লাখ টাকা ফেরতের দাবিতে বন্দরের ৫নং গেটে দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিলও করেন।
বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের চাপের মুখে বন্দরের শ্রমিক নেতা নকিমউদ্দিন মোল্লা টাকা ফেরতের আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা কাজে যোগদান করেন।
বন্দর শ্রমিকদের ২টি সংগঠন মিলে নকিমউদ্দিনের কাছ থেকে একটি অঙ্গীকারনামা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে রাখেন।
বেনাপোল বন্দরে কর্মরত শ্রমিক সংগঠন ৮৯১ এর সভাপতি কলিমউদ্দিন জানান, তার সংগঠনের শ্রমিক সংখ্যা ৬১৪ জন। বন্দরের ক্রেন সাইডের মালামাল লোড আনলোড খাত থেকে প্রতিদিন মজুরি এবং বখশিষের একটি অংশ জমা হয় সংগঠনের নেতা নকিমউদ্দিনের কাছে।
গত ১০ বছরে তার কাছে জমাকৃত টাকার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ।
কলিমউদ্দিন বলেন, করোনার কারণে শ্রমিকরা এখন বেকার, তাদের ঘরে খাবার নেই। এমতাবস্থায় আমরা সংগঠনের জরুরি মিটিং ডেকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় জমাকৃত টাকা শ্রমিকদের মধ্যে ভাগ করে দেয়ার। সিদ্ধান্ত মোতাবেক নকিমউদ্দিনের কাছে টাকা চাইলে সে টাকা ফেরত দিতে টালবাহানা করতে থাকে।
গত ৪ মে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের একটি অংশ আন্দোলন শুরু করলে সে আগামী এক মাসের মধ্যে টাকা ফেরত দেবে বলে স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামায় সই করে দেয়। স্ট্যাম্পে সই করার খবর শোনার পরে শ্রমিকরা শান্ত হয়ে কাজে যোগ দেয়।
এদিকে শ্রমিক নেতা নকিমউদ্দিন মোল্লা টাকা আত্মসাতের ঘটনা অস্বীকার করে বলেন, সংগঠনের কিছু টাকা তার কাছে জমা ছিল। ওরা যেটা বলেছে সেটা ঠিক না। আমার কাছ থেকে স্ট্যাম্পে সই করিয়ে নিয়েছে।
