ফসলি জমি বিলীন, খাদ্য সংকটের আশঙ্কা

গোয়ালন্দে অবৈধ ৩০ ড্রেজারে মাটি তোলায় জমি এখন খাল

আপডেট : ০৬ মে ২০২০, ১২:০৮ এএম

গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া, দেবগ্রাম, ছোট ভাকলা ও উজানচর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৩০টি অবৈধ ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। ফলে অনেকের ফসলি জমি খালে পরিণত হয়েছে। এখনই ড্রেজার বন্ধ না করলে ধান চাষ বন্ধ হলে আগামীতে অনেক কৃষকই খাদ্য সংকটে পড়বেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুধু এখানেই নয়, উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নে মিনু মেম্বারের দুটি (আতর চেয়ারম্যান বাজারের পূর্বে ব্রিজসংলগ্ন একটি ও আরেকটি বাঁধের উত্তরে নুরাল মেম্বারের জমিতে), কাদের ফকিরে দুটি (দৌলতদিয়া ক্যানালঘাট পান্নু মোল্লার বাঁশের সাঁকোর পশ্চিমে), উজানচরের এলাহীর দুটি, জিন্দার, মফি, হিরা, ইসমাইল, শহীদ, দৌলতদিয়া মরা পদ্মায় হাবিব, মজিবর, লোকমান, সালাম, মনির, লোকমান (দৌলতদিয়া ৭নং ওয়ার্ডের ওয়াহেদ ফকিরের বাড়ির এলাকায়), আফজালের ড্রেজার দৌলতদিয়া ক্যানালঘাট প্রামাণিকপাড়া এলাকায় অবৈধভাবে মরা পদ্মা ও এর আশপাশ এলাকায় প্রায় ৩০টি ড্রেজার দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিভিন্ন সময় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিয়েও বন্ধ করা যায়নি অবৈধ ড্রেজিং কার্যক্রম। প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এসব ড্রেজিং মেশিন চালানো হচ্ছে।

দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছোহরাব শেখ ও কুদ্দুস মাঝির সঙ্গে যোগসাজশ করে মরা পদ্মা নদী থেকে মাটি তোলার অভিযোগ করেন ওই ওয়ার্ডের রবিউল্লাহ ব্যাপারীপাড়ার দুই ভাই নুরুল ইসলাম ও আবদুল মজিদ। নুরুল ইসলামের স্ত্রী রোকেয়া বেগম বলেন, এখানে আমাদের পাঁচ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করে সারা বছরের খাবারের ধান উৎপাদন হতো। সেই জমি থেকে ড্রেজার দিয়ে মাটি কেটে গভীর খালে পরিণত করা হয়েছে। আমার স্বামী-ছেলে ও দেবর বাধা দিতে এলে ড্রেজারের মালিকরা ভয় দেখিয়ে তাড়িয়ে দেয়। এখন আমাদের খুবই দুর্দিনে পড়তে হবে।

এ বিষয়ে ড্রেজার মালিক আ. সালাম বলেন, জমির মালিকদের কাছ থেকে মাটি কিনে উত্তোলন করা হয়। আমার কেনার বাইরে কারও জমি ধ্বংস হয়েছে কি না জানা নেই। এ বিষয়ে সুমন বলেন, আমি ড্রেজার কেনার পর লকডাউনের কারণে মাটি কাটতে পারিনি।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবায়েত হায়াত শিপলু বলেন, এই মুহূর্তে ড্রেজার বন্ধ রয়েছে। প্রশাসনকে ম্যানেজ করার বিষয়টি সম্পূর্ণ বানোয়াট।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত