বিশ্বব্যাপী মহামারীর আকার হয়ে ওঠা করোনাভাইরাসজনিত সংকটের এ সময় চাকরি হারানোর ভয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন ফরিদপুরের তিন উপজেলার কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ২৮ জন। একই সঙ্গে বিপাকে পড়েছেন ৪১ স্বেচ্ছাসেবী।
গত ৫ এপ্রিল সূর্যের হাসি নেটওয়ার্কের চেয়ারম্যান মোহাম্মাদ আলী দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা শহরের ১৫৮টি ক্লিনিক বন্ধের জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে একটি আবেদন করেন। ওই তালিকার মধ্যে ফরিদপুরের বোয়ালমারী, মধুখালী ও সিমিত আকারে কার্যক্রম চালু আলফাডাঙ্গা উপজেলার তিনটি ক্লিনিক রয়েছে।
ওই তিন ক্লিনিক সূত্রে জানা গেছে, ম্যানেজার, প্যারামিডিক্স, সার্ভিস প্রমোটর, ক্লিনিক এইড, অ্যাকাউনট্যান্ট, অ্যাম্বুলেন্স চালক, নিরাপত্তাকর্মী, ক্লিনারসহ ২৮ জন কর্মরত রয়েছেন। পদ ভিন্নতায় উল্লিখিত ব্যক্তিরা মাসে ১০ থেকে ৩৩ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন পান।
এ ছাড়া বোয়ালমারী ও মধুখালী উপজেলার সূর্যের হাসি ক্লিনিকের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ২১ স্বেচ্ছাসেবী। যারা প্রতি মাসে ৭০০ টাকা করে ভাতা পান।
এই ক্লিনিকগুলো বন্ধ হয়ে গেলে ফরিদপুরের ওই তিনটি উপজেলার ২৮ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ২১ স্বেচ্ছাসেবী চাকরিহারা হবেন।
এ শঙ্কা থেকে বোয়ালমারী উপজেলার ক্লিনিক ম্যানেজার মো. রবিউল ইসলাম গত ৫ মে উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) ঝোটন চন্দের মাধ্যমে জেলা প্রশাসক অতুল সরকারের কাছে ‘১৫৮টি সূর্যের হাসি ক্লিনিক বন্ধের আদেশ স্থগিত প্রসঙ্গে’ বিষয়ে একটি লিখিত আবেদন করেন।
প্রসঙ্গত, পরিবার পরিকল্পনাসেবা, গর্ভবতী মায়ের পরিচর্যা, বাড়িতে গিয়ে গর্ভবতী মায়েদের সাধারণ ডেলিভারি সেবা, ইপিআইরের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমকে গতিশীল করার জন্য ১৯৯৭ সাল থেকে ইউএস এইডের সহযোগিতায় সূর্যের হাসি ক্লিনিক স্থাপন করা হয়। সারা দেশের ৩৬৯টি উপজেলায় এ ক্লিনিক রয়েছে। তবে এর আগে ৭৪টি ক্লিনিক বন্ধ করে দেওয়া হয়।
লিখিত ওই আবেদনে বলা হয়, ‘দেশের মানুষ যখন করোনার ভয়াবহ ছোবল থেকে বাঁচার জন্য ঘরে বন্দি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন দেশের মানুষকে করোনার হাত থেকে মুক্ত করার জন্য দিন-রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন এবং সূর্যের হাসি নেটওয়ার্কে স্বাস্থ্যকর্মীরা যখন করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছেন, ঠিক সে মুহূর্তে ১৫৮টি সূর্যের হাসি ক্লিনিক বন্ধ করে ২০০০ কর্মীকে বাধ্যতামূলকভাবে চাকরিচ্যুত করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ফলে ২০০০ পরিবারের প্রায় ১৫ হাজার সদস্য সাধারণভাবে খেয়ে-পরে জীবন ধারণ করা প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে পড়েছে।’
ফরিদপুর পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক সর্দার মো. হান্নান বলেন, সূর্যের হাসি ক্লিনিকের বন্ধের চিঠি আমরা পেয়েছি। তবে ফরিদপুর সদরের দুটি শাখার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
