ইসলামবিদ্বেষী পোস্ট দিয়ে চাকরি হারালেন কানাডা প্রবাসী ভারতীয়

আপডেট : ০৯ মে ২০২০, ০৯:৫১ এএম

ভারতীয় নাগরিকদের ইসলামবিরোধী বা মুসলিমবিদ্বেষী সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিজেদের জন্যই ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কিছু দেশে চাকরি খোয়াতে হয়েছে অনেক প্রবাসী ভারতীয়কে। বাধ্য হয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্প্রীতির বার্তা ছড়াতে হয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে।

আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, কানাডায় ইসলামবিদ্বেষী পোস্ট করে বিপাকে পড়েছেন রবি হুড়া নামে ভারতীয় বংশোদ্ভুত এক রিয়েল এস্টেট এজেন্ট। চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে তাকে। কানাডার একটি স্কুলের পরিচালনা বোর্ড ছিলেন তিনি। কর্তৃপক্ষ সরিয়ে দিয়েছে সেই বোর্ড থেকেও।

ঘটনার সূত্রপাত কানাডায় সম্প্রতি একটি আইনের পরিবর্তনকে ঘিরে। এতদিন পর্যন্ত শব্দদূষণ আইনে শুধুমাত্র গির্জার ঘণ্টা বাজানোয় ছাড় ছিল। কিছুদিন আগে এর সঙ্গে ইসলাম-সহ সব ধর্মকে যোগ করা হয়।

তাতে বলা হয়েছে, এখন থেকে শব্দবিধি মেনে আজান দেওয়া যাবে। ব্রাম্পটনের মেয়র প্যাট্রিক ব্রাউন টুইটারে লেখেন, ‘‘১৯৮৪ সালে চালু হওয়া শব্দবিধি অনুসারে গির্জার ঘণ্টা বাজানোয় ছাড় দেওয়া ছিল। তার সঙ্গে এবার নির্দিষ্ট সময় ও ডেসিবেলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রেখে সব ধর্মকেই এই রকম ছাড় দেওয়া হচ্ছে। ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা সূর্যাস্তের (মাগরিব) আজান দিতে পারবেন। কারণ, আমরা এখন ২০২০ সালে বসবাস করছি এবং সব ধর্মকেই সমানভাবে মর্যাদা দেওয়া উচিত।’’

রবি হুড়া এক টুইটে এই সিদ্ধান্তকে কটাক্ষ করেন। তিনি লেখেন, ‘‘এরপর কী? এবার কি উটের পিঠে এবং ছাগলের পিঠে চড়া সওয়ারিদের জন্য রাস্তায় আলাদা লেন হবে? ঈশ্বরকে উৎসর্গ করার নামে ঘরে ঘরে পশুবলির অনুমতি দেওয়া হবে? সব নারীকে মাথা থেকে পা পর্যন্ত ঢেকে রাস্তায় বেরোতে হবে?’’

মুসলমানদের ভোটের জন্যই আজানে ছাড় দেওয়া হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন রবি। যদিও পরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হওয়ায় ওই টুইট তিনি মুছে দেন তিনি।

রমজান মাসে এমন মন্তব্যে চটেছে ইসলামপন্থী বহু সংগঠন। রবি হুড়ার ওই টুইটের স্ক্রিন শট নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু করেছেন অনেকেই। ‘কানাডিয়ান অ্যান্টি হেইট নেটওয়ার্ক’ নামে একটি টুইটার হ্যান্ডলে রবির নিন্দা করা হয়েছে এবং কানাডার এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানো হয়েছে।

রবি চাকরি করতেন ‘আরই/ম্যাক্স কানাডা’ নামে একটি রিয়েল এস্টেট সংস্থায়। তাকে বরখাস্ত করে সংস্থার তরফে টুইটারে লেখা হয়েছে, “আমরা রবি হুড়ার মতামত সমর্থন করি না। তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং আমাদের সংস্থার সঙ্গে আর কোনোভাবেই তিনি আর যুক্ত নন। বহুধর্ম ও বৈচিত্র্য আমদের সমাজের অন্যতম একটি ভাল দিক। আমরা সব সময় সেটা ধরে রাখার চেষ্টা করি।’’

কানাডার ম্যাকভিলে পাবলিক স্কুলের পরিচালনা বোর্ডেও ছিলেন রবি। সেই স্কুলের তরফে টুইট, ‘‘প্রিন্সিপ্যাল তদন্ত করেছেন। ওই ব্যক্তিকে পরিচালনা বোর্ড থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তিনি বোর্ডের কোনো বৈঠকে যোগ দিতে পারবেন না। ইসলাম বিরোধিতা মেনে নেওয়া যায় না এবং তা আমাদের স্কুলের নীতিবিরোধী।’’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত