গাজীপুরে বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ-বিক্ষোভ

আপডেট : ০৯ মে ২০২০, ০৩:৩৪ পিএম

গাজীপুর মহানগরীর ছয়দানা এলাকায় লুইটেক্স পোশাক কারখনার শ্রমিকরা শনিবার বিক্ষোভ ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেছে। শতভাগ বেতনের দাবিতে এবং শ্রমিকদের উপর পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনায় এক শ্রমিক নিহতের গুজবে এ বিক্ষোভ করেন তারা।

এ ছাড়া শতভাগ বেতনের দাবিতে নগরীর কাশিমপুরের জিরানি এলাকার ডরিন পোশাক কারাখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জালাল উদ্দিন জানান, শতভাগ বেতনের দাবিতে মহানগরীর শরীফপুর এলাকার লুইটেক্স কারখানার শ্রমিকরা বৃহস্পতিবার আন্দোলন, ভাঙচুর ও বিক্ষোভ করলে কর্তৃপক্ষ কারখানাটি দুই দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে। ওইদিন (বৃহস্পতিবার) আন্দোলন-বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের শর্টগানের গুলিতে কয়েক শ্রমিক হতাহতের গুজব তুলে এবং শতভাগ বেতনের দাবিতে আবারো শনিবার সকালে শ্রমিকরা কারখানার ফটকের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু করে।

image

এক পর্যায়ে তারা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করে এবং গাড়ির পুরাতন টায়ারে অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাদেরকে লক্ষ্য করে শ্রমিকরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এতে কয়েকজন পুলিশ আহত হয়। শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধের ফলে ওই সড়কে চালাচলকারী পণ্যবাহী যানবাহন আটকা পড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিলে বেলা ১২টার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

কারখানার শ্রমিকরা জানান, তাদের দিয়ে কাজ করানোর পরও কারখানা কর্তৃপক্ষ শতভাগ বেতন-ভাতা দেবে না জানতে পেরে বৃহস্পতিবার শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করে। এ সময় পুলিশ তাদের উপর চড়াও হয়ে গুলি ছুঁড়ে ও লাঠি চার্জ করে। এতে তাদের এক শ্রমিক নিহত এবং আরো কয়েকজন আহত হন। ওই খবর শুনে শ্রমিকরা শনিবার সকালে কারখানায় সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জালাল উদ্দিন আরও জানান, বৃহস্পতিবার পুলিশের গুলিতে শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনা গুজবমাত্র। সরকার করোনা সংকটে যারা কাজে যোগ দিতে পারেনি তাদের জন্য ৬০ ভাগ বেতন প্রদানের নির্দেশ দিলেও তারা তা না মেনে শতভাগ বেতন দাবি করছে। তার ধারণা এ নিয়ে কেউ হয়তো শ্রমিকদের ভুল বুঝাচ্ছে, আন্দোলনে উস্কে দিচ্ছে। 

গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুশান্ত সরকার জানান, একই (শতভাগ বেতনের) দাবিতে শুক্রবার জিরানী এলাকার ডরিন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ ও আন্দোলন করে। পরে কারখানা কর্তৃপক্ষ শনিবার থেকে লে-অফ ঘোষণা নোটিশ টানিয়ে দেয়।

সকালে শ্রমিকরা কাজে যোগ দিতে এসে কারখানা বন্ধ দেখে বিক্ষোভ শুরু করে। এক পর্যায়ে তারা আশপাশে বিভিন্ন কারখানার সামনে গিয়ে বিক্ষোভ ও শ্রমিকদের তাদের আন্দোলনে শরিক হতে আহ্বান জানান এবং সহকর্মীদের নিয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে।

পরে পুলিশ তাদের সরিয়ে দিতে গেলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুঁড়তে থাকে।

এক পর্যায়ে পুলিশ কয়েক শর্টগানের রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও কাঁদানে গ্যাসের সেল নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দুপুরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত