লকডাউন: দুধের বদলে সন্তানের মুখে ভাতের মাড়

আপডেট : ১০ মে ২০২০, ১০:২২ এএম

দুধের বদলে আদিবাসী মা সন্তানদের মুখে তুলে দিচ্ছিলেন ভাতের মাড়। করোনার কালে একে তো লকডাউন, তার ওপর টাকার অভাব— পরিস্থিতিই বাধ্য করেছিল এ কাজে। তখন সাহায্য নিয়ে এগিয়ে এলেন থানার ওসি।

সংবাদ প্রতিদিন জানায়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে রাজ্য সরকার করোনাজনিত দ্বিতীয় দফা লকডাউনের আগেই দুধ সরবরাহে ছাড় দেয়। কিন্তু সে সুফল সবার কাছে ঠিকমতো পৌঁছয়নি। তাই চরম সমস্যায় পড়েছেন নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জ ব্লকের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া নোনাগঞ্জ গ্রামের আদিবাসী পরিবারগুলো।

এখানকার ৯২টি আদিবাসীদের কাজকর্ম বন্ধ। তারা জানান, কাজকর্ম বন্ধ হয়ে থাকায় চরম অসুবিধার মধ্যে পড়েছেন। কোলের সন্তানদের জন্য দুধ জোগাড় করতে পারছেন না। সরকারের পক্ষ থেকে শিশুদের জন্য দুধের ব্যবস্থা করা হয়নি, বাধ্য হয়েই ভাতের মাড় খাওয়াচ্ছিলেন।

খবরটি কানে পৌঁছতেই সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হন কৃষ্ণগঞ্জ থানার ওসি রাজশেখর পাল। মানুষের দুর্দশায় তিনি এর আগেও পাশে দাঁড়িয়েছেন। এবারও ব্যতিক্রম হলো না।

রাজশেখর পাল বলেন, ”অমানবিক ওই বিষয়টি আমার কানে আসতেই আমি শিশুদের দুধ জোগাড় করার চেষ্টা শুরু করি।”

শনিবার শিশুদের জন্য বেবি ফুড ও বয়স্ক নারীদের জন্য পুষ্টিকর খাবার নিয়ে গ্রামে যান রাজশেখর। সঙ্গে  ছিলেন কয়েকজন সহকর্মী। এর জন্য অবশ্য পৃথক কৃতিত্ব নিতে রাজি নন ওসি রাজ শেখর পাল। শুধু বলছেন, ”এর সবই আমাদের কর্তব্যের মধ্যে পড়ে।”

কয়েকদিন ধরে কোলের সন্তানকে ভাতের মাড় খাইয়েছিলেন গৃহবধূ লক্ষ্মী সর্দার। শনিবার বেবি ফুড পেয়ে তার চোখে আনন্দে চিকচিক করছিল। তিনি বলেন, “পুলিশ এমন হয় নাকি? উনি নিশ্চয়ই ভগবান। আমার বাচ্চা দুধ খেতে পারছিল না। আমার বাচ্চার জন্য দুধ দিলেন। উনি তো ভগবান।”

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত