গত কয়েক বছর ভোলায় তরমুজের ফলন কম হয়েছিল। এ ছাড়াও রোগ বালাইয়ের কারণে ক্ষতি হয়েছে চাষিদের। স্থানীয় কৃষকরা বলছেন গত আট থেকে ১০ বছরের মধ্যে চলতি মৌসুমে সবচেয়ে বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে এ ফলনেও যেন ভাগ্যের চাকা ঘুরছে না চাষিদের। করোনাভাইরাসের কারণে বাজারে ক্রেতার অভাব এবং বিভিন্ন জেলা লকডাউনের কারণে তরমুজ বিক্রি হচ্ছে না। যেটুকু বিক্রি হচ্ছে তাতে মূলধনও উঠবে কি না তা নিয়ে সংশয়ে আছেন কৃষকরা।
ভোলা সদর, বোরহানউদ্দিন ও চরফ্যাশনের অধিকাংশ ক্ষেতেই পেকে নষ্ট হচ্ছে তরমুজ। সীমিত পরিসরে ছোট নৌকা ও ট্রাকে করে তরমুজ পরিবহনের ব্যবস্থা করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। এ ছাড়া কয়েকগুণ বেশি ভাড়া গোনার পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে বাঁধার মুখে পড়তে হচ্ছে বলে জানান চাষিরা। ফলে লাভ তো দূরে থাক, উৎপাদন খরচও উঠবে না বলে জানালেন কয়েকজন প্রান্তিক চাষি। মূলধন হারিয়ে পথে বসতে হবে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, জেলায় এ বছর ৭ হাজার ৭২২ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ৬৮৯০ হেক্টরে আবাদ হয়েছে চরফ্যাশন উপজেলায়। এ ছাড়া সদর উপজেলায় ৬২০ হেক্টর, দৌলতখানে ৩০, বোরহানউদ্দিনে ১৩০, তজুমদ্দিনে ১২, লালমোহনে ৩৯ ও মনপুরা উপজেলায় ১ হেক্টরে তরমুজ চাষ হয়েছে। জেলায় এ বছর তরমুজ উৎপাদন হয়েছে ৩ লাখ ৭০ হাজার ৬৫৬ মেট্রিক টন। তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আবাদ কম হলেও ফলনে সন্তুষ্ট কৃষি বিভাগ। এরই মধ্যে ক্ষেতের ৮০ ভাগ তরমুজ তোলা হয়েছে বলে জানায় কৃষি অফিস।
চরফ্যাশনের উত্তর আইচা গ্রামের তরমুজচাষি মোশারেফ হোসেন জানান, চলতি মৌসুমে প্রায় ৫ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। ফলনও বেশ ভালোই হয়েছে। প্রতিবছর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাইকারদের কাছে তরমুজ পাঠাতেন তিনি। তবে এবার স্থানীয় বাজারেই বিক্রি করছেন। লাভের আশা না করে মূলধন টেকাতে পারলেই সন্তুষ্ট হবেন তিনি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ভোলার উপ-পরিচালক হরলাল মধু জানান, তরমুজের ফলন ভালো হয়েছে। করোনার প্রভাবে কৃষকরা বিপাকে পড়লেও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় আমরা করোনা সহায়তা হিসেবে চাল-ডালের পাশাপাশি তরমুজ কিনেও ত্রাণ হিসেবে বিতরণ করেছি। এ ছাড়া পরিবহনের ব্যবস্থা করে ভোলার তরমুজ বরিশাল, ঢাকা, নোয়াখালী ও চট্টগ্রামে পাঠনো হচ্ছে।
