রূপগঞ্জ ট্রাকচাপায় নিহত অজ্ঞাত নারীর লাশ দাফন করলো ছাত্রলীগ

আপডেট : ১৪ মে ২০২০, ০৩:৪২ পিএম

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ট্রাকচাপায় নিহত অজ্ঞাত মানসিক প্রতিবন্ধি (৪০) নারীর লাশ দাফনে করোনা আতঙ্কে যখন কেউ এগিয়ে আসেনি, তখন মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো ভুলতা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের একদল তরুণ।

বৃহস্পতিবার দুপরে ভুলতা ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর আমিনুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে অজ্ঞাত নারীর লাশ দাফনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে গত বুধবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার আউখাবো এলাকার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ট্রাক চাপায় ওই মানসিক প্রতিবন্ধি নারী নিহত হয়।

এ ব্যাপারে ভুলতা ফাঁড়ির অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম বলেন, বুধবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আউখাবো এলাকায় রাস্তার পাশে ট্রাক অজ্ঞাত এক নারী গুরুতর আহত হয়। পরে রাত ৮টার দিকে ভুলতা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি মামুন ভুইয়া ও সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শান্ত রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় ওই অজ্ঞাত নারীকে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তারা ওই নারীকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে ভুলতা ফাঁড়ি পুলিশ ওই অজ্ঞাত নারীর লাশ উদ্ধার করে নিজেদের হেফাতে নেন। পরে স্থানীয়দের কাছে জানা যায় ওই নারী একজন মানসিক প্রতিবন্ধি। তাকে আউখাবোসহ আশপাশের এলাকায় তাকে বিভিন্ন সময় ঘুরাঘুরি করতে দেখা গেছে। বর্তমানে করোনাকালে লাশ ওই অজ্ঞাত নারী লাশ দাফনের জন্য যখন কেউ এগিয়ে আসছিল না। এ সময় মানবিক দিক বিবেচনা করে ভুলতা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ছাত্রলীগ কর্মীরা লাশ দাফনের দায়িত্ব নেন।

পরে এদিন রাত ১১টার দিকে ভুলতা ফাঁড়ি পুলিশ ও স্থানীয় ইউপি সদস্য আলী আজগরের উপস্থিতিতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মিলে ওই নারীর জানাজা শেষে স্থানীয় একটি সামাজিক কবরস্থানে দাফন করেন। নিহত নারীর নামপরিচয় পাওয়া যায়নি।

ওই মানসিক প্রতিবন্ধি নারীর ময়নাতদন্ত না করে লাশ দাফনের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে প্রতিবেদককে ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম বলেন, কারো মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ থাকলে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। ট্রাকচাপায় ওই মানসিক প্রতিবন্ধি নারী নিহত হয়েছেন এটা নিশ্চিত হওয়ায় মানবিক দিক বিবেচনা করে লাশটি দাফন করা হয়।   

রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ওই নারীকে চাপা দিয়ে ঘাতক গাড়িটি পালিয়ে যায়। যেহেতু ঘাতক গাড়িটি পালিয়ে গেছে। সে কারণে মানসিক ওই নারী প্রতিবন্ধি হওয়ায় মানবিক দিক বিবেচনা করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ওই নারীর লাশ সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এ ব্যপারে ইউপি সদস্য আলী আজগর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ওই নারী একজন মানসিক প্রতিবন্ধি। ছাত্রলীগ নেতাকর্মী ও পুলিশের সমন্বয়ে আমি নিজে উপস্থিত থেকে লাশটি সামাজিক কবরস্থানে দাফনের ব্যবস্থা করি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত