ঢাকায় আক্রান্ত এক করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী লালমনিরহাটের নিজ বাড়িতে পালিয়ে এসেছেন। করোনায় আক্রান্ত ওই গার্মেন্টসকর্মীর বাড়ি লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার সীমান্তবর্তী ধবলসুতি গ্রামে।
এ ঘটনায় জেলাজুড়ে চাঞ্চলের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় তাকে আটক করে নিজ বাড়িতে রাখা হয়েছে।
চিকিৎসরা ধারণা করছেন, ওই গার্মেন্টসকর্মীর মাধ্যমে অনেকেই করোনা সংক্রমিত হয়ে থাকতে পারেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার নারায়ণগঞ্জের গার্মেন্টসকর্মী (৩০) জ্বর, সর্দি ও গলাব্যথা অনুভব করলে ঢাকায় নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। বুধবার তার করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। রিপোর্ট হাতে পেয়ে তিনি ঢাকার ঠিকানায় আর ফিরে যাননি। ভয়ে পালিয়ে আসেন গ্রামের বাড়ি লালমনিরহাটে পাটগ্রামের ধবলসুতি গ্রামে।
পরে ঢাকা থেকে পাটগ্রাম পুলিশ ও লালমনিরহাটের সিভিল সার্জনকে বিষয়টি অবগত করা হয়। তাকে শনাক্ত করে তার নিজ বাড়িতে রাখা হয়েছে।
করোনায় আক্রান্ত গার্মেন্টসকর্মীর সাথে সেল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ঢাকা হতে ১৪ জন মিলে একটি মাইক্রোবাস ভাড়া করে রংপুরে আসেন। সকলেই রংপুরে নেমে যায়। পরে তিনি রংপুর হতে কয়েকবার অটোরিকশা বদল করে পাটগ্রামে তার গ্রামের বাড়িতে আসেন।
এদিকে তার তথ্যমতে রংপুরে নেমে যাওয়া মাইক্রোবাসের চালক, অটোরিকশার যাত্রী ও চালকদের সন্ধান করা হচ্ছে। কারণ সংক্রমণ রোধে তাদের নমূনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হবে।
পাটগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুমন কুমার মোহন্ত বলেন, তথ্য পেয়েই পাটগ্রাম স্বাস্থ্য কমপেক্সের লোকজন সহ ওই যুবককে চিহ্নিত করে তাকে তার নিজ বাড়িতে রাখা হয়েছে।
লালমনিরহাট সিভিল সার্জন ডা. নির্মলেন্দু রায় বলেন, ওই গার্মেন্টসকর্মীকে আটক করে তার নিজ বাড়িতেই রাখা হয়েছে। এছাড়া আজকে তার বাড়ির লোকজনের নমুনা সংগ্রহ করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। যুবকের বাড়ি স্থানীয় প্রাশাসনের মাধ্যেমে লকডাউন করা হয়েছে।
